দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে আগাম প্রস্তুতি এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের অপরিহার্য দাবি—এমন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী, আংশিক বাকলিয়া, সদরঘাট, চকবাজার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, শিশু-কেন্দ্রিক পূর্বাভাসভিত্তিক দুর্যোগ প্রস্তুতি কার্যক্রম বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।
১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়ন এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সার্বিক সহায়তায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) বাস্তবায়িত “Child-centered Anticipatory Action for Better Preparedness of Communities and Local Institutions in Northern and Coastal Areas of Bangladesh” প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগীয় কার্যালয়ে ১৭–১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণে ফায়ার ফাইটিং, সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ, ফার্স্ট এইড, ভূমিকম্প ও ভূমিধস ব্যবস্থাপনা বিষয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এমপি আবু সুফিয়ান বলেন, এই প্রশিক্ষণ শুধু দক্ষতা উন্নয়ন নয়; বরং মানবিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি অনন্য প্ল্যাটফর্ম। প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকেরাই দুর্যোগের প্রথম সাড়া দানকারী হিসেবে কমিউনিটিতে আশার বাতিঘর হয়ে উঠবে।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলোতে গড়ে ওঠা প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার নেটওয়ার্ক জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ আরও বিস্তৃত পরিসরে আয়োজনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি দক্ষ কমিউনিটি প্রস্তুতিই সবচেয়ে বড় শক্তি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে, ইপসার প্রকল্প কর্মকর্তা মুহাম্মদ আতাউল হাকিম আরিফের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. জসিম উদ্দিন, ইপসার প্রজেক্ট ম্যানেজার সানজিদা আক্তার প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ইপসা বাস্তবায়িত অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৫২ জন কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। তারা পূর্বাভাসভিত্তিক দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি এবং দুর্যোগকালীন জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন। এর আগে একই প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরে আরও ৩৫০ জন কমিউনিটি ভলান্টিয়ারকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।





