ঢাকা, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯ ফাল্গুন, ১৪৩২, ৪ রমজান, ১৪৪৭
সর্বশেষ
মেয়র ও সাংবাদিক পাল্টাপাল্টি তর্ক :আইনি বিতর্কের বদলে ব্যক্তি–কেন্দ্রিক বিতর্ক
দুস্থদের ইফতার সামগ্রী প্রদান এমপি আবু সুফিয়ান:চট্টগ্রাম নতুন ব্রিজঅটো টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়ন
দেশটার জন্য শুভ কামনা ছাড়া আর কিছু বলার নেই!
একুশের চেতনা ও একুশ শতকের বাংলাদেশ:মোঃ শহীদুল ইসলাম
চাকরি হারালেন নির্বাচন কমিশনের ১৫ কর্মী
খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে আলোচিত সমালোচিত :নেতাকর্মীরা বিব্রত
পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে অপাহাড়ি প্রতিমন্ত্রী নিয়ে প্রশ্ন
ইপসা আয়োজিত স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন, কমিউনিটির সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান এমপি আবু সুফিয়ানের
ওয়াসায় কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে বিভ্রান্তি, সংগঠনের প্রতিবাদ
বই মেলায় আসছে ভালবাসার কবি গোলাম মাওয়া জসিমের ৩টি বই

প্রচ্ছদ >

চট্টগ্রাম

মেয়র ও সাংবাদিক পাল্টাপাল্টি তর্ক :আইনি বিতর্কের বদলে ব্যক্তি–কেন্দ্রিক বিতর্ক

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্ক এখন রূপ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণে। আজ শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম প্রতিদিনের অনলাইনে ‘মেয়াদ শেষ, তবুও সরতে নারাজ চট্টগ্রামের মেয়র: কী বলছে আইন?’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশের পরপরই বিষয়টি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। আইনগত ব্যাখ্যা ও মেয়রের অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন মহলে মতভেদ দেখা দেয়, যা দ্রুতই জনআলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়।

প্রতিবেদনে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলায় চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখারকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেছেন বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। জবাবে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকও দিয়েছেন প্রকাশ্য ব্যাখ্যা। এতে নগর রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান পর্ষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ ২২ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে—এই প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯–এর সংশোধিত ৬ নম্বর ধারা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১১ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ পর্ষদের দায়িত্বে বহাল থাকার সুযোগ বিলুপ্ত হয়েছে; ফলে মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসক নিয়োগই আইনি পথ হতে পারে।

ওই প্রতিবেদনের একটি ফটোকার্ড নিজ ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে হোসাইন তৌফিক ইফতিখার লেখেন, “আইন বলছে বিদায়, কিন্তু চট্টগ্রামের মেয়র কি সরছেন?” ফেসবুকে এমন পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা।

পোস্টের মন্তব্যঘরে প্রতিক্রিয়া জানাতে ভুল করেননি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ইংরেজি ভাষায় তিনি লেখেন, আদালতের পর্যবেক্ষণে সাবেক মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী–এর পূর্ণ মেয়াদকালকে ‘illegal and unethical’ বলা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শপথের তারিখ থেকে পাঁচ বছরের ‘রেড পাসপোর্ট’ (কূটনৈতিক পাসপোর্ট) ইস্যু করা হয়েছে এবং চাইলে তিনি শপথের তারিখ থেকে পূর্ণ পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তবে নগরবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সিদ্ধান্ত এখন স্থানীয় সরকার বিভাগের—এ কথাও যোগ করেন মেয়র। মেয়রের এই অবস্থানের পক্ষে সামাজিক মাধ্যমে অনেক সমর্থক মন্তব্য করেন।

শুধু মন্তব্য করেই শেষ নয়। প্রায় চার ঘণ্টা পর মেয়র নিজের ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক ইফতিখারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার পুরোনো ছবি, বিশেষ করে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর সঙ্গে একাধিক ছবি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন, “He is so called journalist… who did conspiracy against BNP and BNP activists last 16 years।” (সে একজন তথাকথিত সাংবাদিক… যে গত ১৬ বছর বিএনপি ও বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।) এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।

মেয়রের পোস্টের মন্তব্যঘরে সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার একটি স্ক্রিনশট দেন, যা তিনি ২২ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেছিলেন। সেখানে উল্লেখ ছিল, দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিন কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাতে এসে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম নির্বাচনে জিতলে নগরবাসীর জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন; পত্রিকার পক্ষ থেকেও সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। সাংবাদিকের দাবি, এটি ছিল পেশাগত সৌজন্য সাক্ষাৎ—কোনো রাজনৈতিক পক্ষপাতের প্রমাণ নয়।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার তার সর্বশেষ ফেসবুক পোস্টে সাবেক মেয়র এবং চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজম নাছির উদ্দিনের পাশে ডা. শাহাদাত হোসেন দাঁড়ানো শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, সত্যের কোনো দল নেই…
আমার অফিসে এসেছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ প্রায় সব দলের নেতারা। আওয়ামী লীগ আমলে মহানগর বিএনপির নতুন কমিটিও এসেছিল সৌজন্য সাক্ষাতে। কেউ ফুল–মিষ্টি নিয়ে, কেউ কেবল শুভেচ্ছা জানাতে। গুলিতে নিহত ‘সন্ত্রাসী’ সরোয়ার বাবলাও দুবার এসেছিলেন। একজন সাংবাদিকের পেশায় এটিই স্বাভাবিক নেটওয়ার্কিং। সাংবাদিকের কাজ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সব পক্ষের কথা শোনা, কারও ‘দোসর’ হওয়া নয়।

যে মামলায় আদালতের আদেশে বিএনপি নেতা শাহাদাত হোসেন আজ চট্টগ্রামের মেয়র, সেই মামলার ডকেট উল্টালে দেখবেন, তার মূল এভিডেন্সই আমাদের ২০২১ সালের সেই রিপোর্ট: ‘চট্টগ্রামের ভোটে নির্বাচন কমিশন কন্ট্রাক্ট—এক কলমে ফল বদলে গেল ইভিএমের ভোটে!’ মামলার অভিযোগপত্রে তো লাইন বাই লাইন।

যার অধিকারের জন্য লড়াই করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ আমলে আমার নিউজপোর্টালটি ছয় মাস ব্লকড ছিল, আজ তিনিই অভিযোগ তুলছেন, আমি নাকি ১৬ বছর ধরে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছি!

নিউজরুমে আমার একটাই কাজ যে কোনো পরিস্থিতিতে নির্ভয়ে সত্য তুলে ধরা। সুতরাং কোনো অপপ্রচারেই, দয়া করে মনে রাখবেন, অন্তত এই আমাকে দমানো যাবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, মূল ইস্যু ছিল আইনের ব্যাখ্যা—মেয়াদোত্তীর্ণ হলে নির্বাচিত মেয়র দায়িত্বে থাকতে পারেন কি না। কিন্তু সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রমণে রূপ নেওয়ায় জনআলোচনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হয়েছে। এতে আইনি বিতর্কের বদলে ব্যক্তি–কেন্দ্রিক বিতর্কই প্রাধান্য পাচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞরা আগেই মত দিয়েছেন, ২০১১ সালের সংশোধনীর পর মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসক নিয়োগ অথবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন—এই দুই পথই খোলা থাকে। অন্যদিকে মেয়রের বক্তব্য, আদালতের রায়ের আলোকে তার মেয়াদকাল শপথের তারিখ থেকে গণনা হওয়া উচিত।

এখন নজর স্থানীয় সরকার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকে। প্রশাসক নিয়োগ, নাকি দ্রুত নির্বাচন—যে সিদ্ধান্তই আসুক, তা চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—আইনের ব্যাখ্যা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক সামাজিক মাধ্যমে যে মাত্রা পেয়েছে, তা স্থানীয় রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে। নগরবাসীর প্রত্যাশা, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এই বিতর্কের সমাধান হবে; ব্যক্তিগত আক্রমণে নয়।

তবে এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন একাধিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছিলেন যে, তিনি খুব দ্রুত একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চান। ৩৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনেরও পরীক্ষা চান তিনি। প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনে কত ভোট পান এবং মানুষের মন কতটুকু জয় করতে পেরেছেন- তারই পরীক্ষা চান।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
 

Copyright© 2025 All reserved