ড.মুহাম্মদ ইউনূস স্যার,নিজের সবটুকু অর্জনকে ম্লান করে নিজেকে ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করলেন। জাতির প্রতি দায়বদ্ধ নেতৃত্বের যে পরিমিতি ও মর্যাদা প্রয়োজন, তা তিনি ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।তিনি কখনো নিজেকে কমেডিয়ানের ভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছেন, কখনো ভিলেনের মতো কঠোর মুখোশ পরে আবির্ভূত হয়েছেন; কিন্তু কোথাও তাঁর মধ্যে প্রকৃত রাষ্ট্রনায়কের স্থিরতা, প্রজ্ঞা ও দায়বদ্ধতার ছাপ দেখা যায়নি।
তাঁর শাসনামলে উন্নয়ন ও বিনিয়োগের নামে বড় বড় সামিট আয়োজন করা হয়েছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে প্রচারণায়। প্রতিশ্রুতি ছিল,বিদেশি বিনিয়োগে দেশ ভরে যাবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কিন্তু বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো টেকসই বিনিয়োগ আসেনি; বরং জনগণের প্রত্যাশা ভেঙে চুরমার হয়েছে।
দরিদ্রতামুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, দারিদ্রকে যাদুঘরে পাঠাবেন,অথচ পরিসংখ্যান বলছে,লাখ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কাতারে নেমেছে। নতূন করে সাতাশ লক্ষ লোক দরিদ্র হয়েছে।
রাষ্ট্রের ঋণের বোঝাও অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাঁধে এক ভারী দায় হয়ে চেপে বসেছে। মাত্র সতের মাসের শাসনামলে বর্তমান সরকারের ঘাড়ে তেইশলক্ষ কোটি টাকা ঋণের বোঝা চাপিয়েছেন তিনি।কিন্তু দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন হয়নি।
অথচ শেখ হাসিনার ১৭ বছরের শাসনামলে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হলেও ঋণের পরিমাণ ছিল দুইলক্ষ কোটি টাকা।খাদ্যেও স্বয়ং সম্পন্ন ছিল।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, তাঁর সরকারের সময় আইনের শাসনের পরিবর্তে এক ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে মব সংস্কৃতি মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা, ন্যায় ও জবাবদিহিতার বদলে অস্থিরতা ও ভয় কাজ করেছে বেশি।
তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতিও যথেষ্ট সহনশীল ছিলেন না। সাংবাদিকদের সঙ্গে বিরোধ, ভিন্নমতের প্রতি অসহিষ্ণুতা, এমনকি উচ্চপদস্থ সাংবিধানিক ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে,এসব অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।তার সময়ে যে সকল সাংবাদিক সত্য বলেছেন তাদেরই এ্যারেস্ট করেছেন।মঞ্জুরুল আলম পান্না,আনিস আলমগীর ভাইসহ অনেককেই এ্যারেস্ট করেছেন।
শুধু সাংবাদিকের নয় ,মহামান্য প্রেসিডেন্ট এর বাক স্বাধীনতাকেও রহিত করেছিলেন।
ড.মুহাম্মদ ইউনূস স্যার কি সংবিধান মেনে চলেছেন? তিনি কি কর আইন মেনেছেন? ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেছেন? নাকি নিজের প্রভাব ও অবস্থান ব্যবহার করে আইনের কাঠামোকেই নিজের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করেছেন?
একটি বিশেষ অধ্যাদেশের মাধ্যমে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ( গ্রামীণ ব্যাংক) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেটি সাধারণ বাণিজ্যিক ব্যাংকের মতো নয়; তার নিজস্ব কাঠামো ও সীমা নির্ধারিত ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠাকালীন আদেশে যে কার্যপদ্ধতির কথা বলা হয়েছিল, পরবর্তীতে তা পরিবর্তন করে ক্ষুদ্রঋণভিত্তিক কার্যক্রমে রূপ দেওয়া হয় এবং সেই কাঠামোর সুযোগ নিয়ে কর-সুবিধা গ্রহণ করা হয়।
তিনি কখনো আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন না, কোনো আইনকে তোয়াক্কা করেননি।তিনি চুক্তি করেছেন জনগণকে জানাননি। যে চুক্তির শুল্ককে ঐ দেশের সুপ্রীম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে।
আমার প্রশ্ন হলো,এতো এতো পুরুষ্কার কিংবা নোবেল দিয়ে কি হবে যে নোবেল (হাফ নোবেল) অন্যকে সন্মান দিতে জানেনা,যে নোবেল দেশে শান্তির পরিবর্তে মব ভায়োলেন্স এর সংস্কৃতি চালু করে? তার সরকারের উষ্কানিতে একজন সাংবিধানিক পোস্ট এর প্রধানকে ( প্রধান নির্বাচন কমিশনার) জুতা পিটা করা হয়েছে,বীর মুক্তিযোদ্ধাদের গলায় জুতার মালা পরানো হয়েছে,শিক্ষকদের অপমান অপদস্ত করা হয়েছে। ৩২ নাম্বার ভেঙ্গে বাঙ্গালীর চেতনায় আঘাত করা হয়েছে, স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর ছবিতে প্রশ্রাব করা হয়েছে।
কতো নিকৃষ্ট হলে এমনটা করতে পারে? এরপরও কি তাকে সন্মান করা যায়? কি করে তিনি সন্মান ডিজার্ব করেন? আমার মনে হয়,এই জাতি তাঁকে কখনো ক্ষমা করবে না।তিনি যে প্রতিশোধের সংস্কৃতি চালু করে গেছেন সে প্রতিশোধের আগুনে তিনি নিজেই জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাবেন।অতীতে হাতকড়া পরানো না হলেও ভবিষ্যতে পরালে জনগণ বিস্মিত হবেনা।
কেননা,এই সংস্কৃতি তিনিই চালু করেছেন।
একজন প্রকৃত রাষ্ট্রনায়ক ইতিহাসে স্মরণীয় হন দূরদর্শিতা, সততা ও মানবিক নেতৃত্বের জন্য। কিন্তু তার নেতৃত্ব ছিল ইতিহাসের কালো অধ্যয়,কলংকিত অধ্যয়।স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে,শুধু আন্তর্জাতিক পুরস্কার বা স্বীকৃতি কি একজন ব্যক্তির সামগ্রিক আচরণকে প্রশ্নাতীত করে দেয়?
সম্মান কোনো পদবী বা পুরস্কারের ওপর নির্ভর করে না; সম্মান নির্ভর করে ধারাবাহিক নৈতিকতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, স্বচ্ছতা ও সমাজে ইতিবাচক প্রভাবের ওপর।





