পদধারী আওয়ামী লীগের দোসর ভোল্ট পাল্টে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় বিএনপির নেতা পরিচয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সুশীল ধর (চান্দু) ও তারই আপন পুত্র রাহুল ধর। তারা এখন বিএনপির নেতা হয়ে শুরু করেছেন নতুন রাজত্ব। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের নাম বিক্রি করে সাধারন মানুষদের ভয়ভীতি দেখানো আওয়ামী লীগ পরিচয়ধারী পিতাপুত্র চলছে বীরদর্পে। অথচ বিগত আওয়ামী শাসনামলে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতাকর্মী হামলা মামলার শিকার হলেও এখনও হচ্ছে বঞ্চনার শিকার। ২০২৪ এর ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভোল পাল্টে চান্দুর ছেলে রাহুল এখন আনোয়ারা উপজেলায় হিন্দু- বৌদ্ধ- খৃষ্টান কল্যান ফ্রন্টের বিশাল নেতা। নামে-বেনামে দলিল সৃজন করে নিরিহ মানুষের জায়গা দখলে রাহুল এখন আনোয়ারার অঘোষিত সম্রাট। জুলাইয়ে ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানের (গত ২০২৪ ৫ আগস্ট) আগে সুশীল ধর চান্দু ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য। রাহুল ধর ছিলেন যুবলীগ নেতা। আন্দোলনের সময় ছাত্রদের দমাতে আওয়ামী লীগের হয়ে তারা তাদের বাহিনী নিয়ে আনোয়ারার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন রকম সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন, অর্থ যোগান দিয়েছেন। এছাড়াও বিগত দিনে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল মিটিং ও আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রচার- প্রচারনার কার্যক্রমে সক্রিয় অংশ নিতে দেখা যেতো। উপজেলা ও জেলার আওয়ামী লীগ নেতাদের সাথে তাদের নিয়মিত ওঠাবসা- দহরমমহরম ছিল। নির্বাচন আসলেই নৌকা প্রতীকে চেয়েছেন ভোট। নিজেদের এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন আওয়ামী লীগ নেতা পরিচয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, বিগত ১৭ বছর চান্দু ও রাহুলকে আমরা আওয়ামী লীগ- যুবলীগ নেতা হিসাবেই চিনতাম এবং তারা আ.লীগের রাজনীতিতে থেকে বিভিন্ন সময় আমাদের নিকট ভোট চাইতে বাড়িতে আসতেন। আওয়ামী লীগ থেকে সকল সুযোগ-সুবিধা নেয়া নেতা ৫ই আগষ্টের পর বিএনপির কাতারে কিভাবে স্থান পেলেন এ নিয়ে জনমনে নানা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এছাড়াও ৫ আগস্টের পর আওয়ামীলীগ নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর নামে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা থেকে ছাত্র সমন্নয়করা বাবুর নাম- ছবি মুছে দিলে ও ভেঙে ফেললে চান্দু- রাহুলরা তা ভিডিও করে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান জাবেদ ও রিদুয়ানুল করিম সায়েম এর কাছে মুহূর্তেই প্রেরণ করতেন। আর সেই ভিডিও ফুটেজগুলো দিয়ে ছাত্র সমন্নয়ক ও বিএনপির নেতাকর্মীর নামে মামলা দায়ের করবে বলে পলাতক জাবেদ- সায়েমরা দুবাই থেকে হুমকি অব্যাহত রেখেছে। এসব বিষয়ে সুশীল ধর চান্দু ও রাহুল ধরের কাছে জানতে চাইলে তারা দুজনেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বিগত দিনে কখনো আওয়ামীলীগের রাজনীতি করেননি বলে জানান। আওয়ামী লীগের ওইসব দোসরকে বিএনপিতে স্থান দেয়ায় বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মনে করছেন একটু বিলম্ব হলেও পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে আনোয়ারার বিএনপিতে। এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক আনোয়ার হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সুশীল ধর চান্দু ও তার ছেলে রাহুল ধর বিগত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে দেখেছি। ৫ আগষ্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পরপর ওরা বাপ পূতকে হঠাৎ বিএনপির বিভিন্ন সভাসমাবেশ ও মিছিলে দেখতে পাচ্ছি। এসব বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলার বিএনপি নেতা সাইফুল আলম বলেন, দলের সুদিনে অনেকে বিএনপিতে ভীড় করবে। তাদের বিষয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, চান্দু-রাহুল আওয়ামীলীগের দোসর। আনোয়ারা উপজেলা বিএনপির নেতা শামসুল আলম বলেন, আনোয়ারা উপজেলা বিএনপিতে সুশীল ধর চান্দু ও রাহুল ধর নামের কাউকে আমরা চিনিনা।





