ঢাকা, রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ২৩ চৈত্র, ১৪৩১, ৭ শাওয়াল, ১৪৪৬
সর্বশেষ
সন্দ্বীপের সীমানা নির্ধারণের দাবিতে মানববন্ধন:সন্দ্বীপ অধিকার আন্দোলন
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অদম্য একুশ ‘র আনুষ্ঠানিক যাত্রা ও ঈদ পুনর্মিলনী
সন্দ্বীপে নবীন আলেমদের সংবর্ধনা:ইসলামী যুব আন্দোলন
এনসিপির উদ্যোগে ‘কেমন সন্দ্বীপ চাই’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা
বিএনপি চেয়ারপারসন’র উপদেষ্টা আসলাম চৌধুরীর চন্দ্রনাথ মন্দির পরিদর্শন
বিএনপির গ্রুপ সংঘর্ষে: আহত যুবদল নেতা জিহাদের মৃত্যু
লোহাগাড়ায় দুর্ঘটনায় আহতদের পরিদর্শনে:উপদেষ্টা ফারুক ই আজম-মেয়র শাহাদাত
সন্দ্বীপ ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং স্টুডেন্ট’স ফোরাম’র ঈদ পুনর্মিলন
জাতীয় নাগরিক পার্টির উদ্যোগে সাতকানিয়ায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

বাঙালির সংস্কৃতির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে একান্নবর্তী পরিবার

মনওয়ার সাগর:

সুপ্রাচীন কাল থেকে যে যৌথ পরিবারে চিত্র সারা বাংলায় দেখা যেত, এখন তা অনেকটাই ম্লান। শহুরে জীবনে অনেক আগেই বিলীন হয়েছে যৌথ পরিবারের চিত্র। বংশ মর্যাদা এমনকি ঐতিহ্যের পরিবারেও বিলীন একত্রে বাস করার ইতিহাস। পরিবার মানেই হচ্ছে মা, বাবা, ভাই, বোন, দাদা, দাদি সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে বসবাস। আমাদের সমাজব্যবস্থায় পরিবারের এই ধারণা প্রচলিত অতীত থেকেই। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে, আমরা যেন ততই এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসছি। যেন ক্রমেই ‘স্বামী-স্ত্রী-সন্তানে’ই সীমাবদ্ধ করে ফেলছি আমরা পরিবারকে। মা-বাবাকে হয়তো গ্রামের বাড়িতে কাটাতে হচ্ছে নিঃসঙ্গ-অসহায় জীবন। আবার অনেক মা-বাবার ঠিকানা হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’। শহুরে জীবন ব্যবস্থায় এই ব্যাপারটি চরম আকার ধারণ করেছে।

কালের অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে একান্নবর্তী সংসারজীবনের সেই সুমধুর অতীত। একক পরিবারের কালছায়ায় গড়ে উঠছে স্বার্থপর ও হতাশাগ্রস্ত এক সমাজ।

একক পরিবারে ভার্চুয়াল উপকরণে নির্ভর করে বেড়ে উঠছে তরুণসমাজ। দুরন্তময় শৈশবের কোনো উচ্ছলতার স্পর্শ ছাড়া নিঃসঙ্গতায় ভরা দুঃসহ জীবনযাপনই যেন তাদের নিয়তি। শিশুরা স্মার্টফোনে আসক্ত, একা একা সে হয়ে ওঠে এক বিচ্ছিন্ন জগতের বাসিন্দা। ভিডিও, কম্পিউটার গেমও বিনোদনের নামে সে সরে যায় বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য যৌথ পরিবারের বন্ধনের কোনো বিকল্প নেই।

রক্তের বন্ধন মানেই পারিবারিক বন্ধন। পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে অকৃত্রিম সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তা অটুট রাখা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। আমাদের চিরায়ত সমাজ ব্যবস্থায় সুন্দর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, সুন্দর পারিবারিক বন্ধন। পরিবারের সকল সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বন্ধুর মতো হলে পারিবারিক নানা জটিল সমস্যা ও মোকাবিলা করা যায়। সকলের এগিয়ে চলার পথ হয় মসৃণ।

মানবজীবনে প্রত্যেক মানুষের জন্য পারিবারিক শিক্ষা অতি গুরুত্বপূর্ণ। নানাবিধ চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন করতে পরিবারের ভূমিকা অপরিসীম। ভদ্রতা, নৈতিকতা, দায়িত্বশীলতা, কৃতজ্ঞতাবোধ শেখা, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা-সম্মান প্রদর্শন, কনিষ্ঠদের স্নেহ-আদর করা, অন্যের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করা, পরোপকারিতার মানসিকতা গড়ে তোলা, উদার মানসিকতাবোধ জাগ্রত করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে যতটা না অর্জন করা যায়, তার চেয়ে বেশি পরিবার থেকে অর্জন করা যায়।

একটি আদর্শ পরিবারে অন্যতম কার্যাবলি হলো পরিবারের সকলে মিলেমিশে একত্রে বাস করা। আর এ কাজটাই একটি আদর্শ পরিবার থাকে। পরিবারের সবাই একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলা মধ্যে বাস করে। তারা বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক কাজ হতে নিজেদের বিরত রাখে এবং শান্তিতে বসবাস করে। পরিবারের কারও বিপদে পরিবারের অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ তাকে মানসিকভাবে সাহায্য করে। ফলে সে তার বিপদ হতে দ্রুত সেরে উঠতে পারে। একটি আদর্শ পরিবারের লোকজন সর্বদা একে অন্যের প্রতি সহযোগী মনোভাব প্রকাশ করে। কেউ বিপদে পড়লে তাকে সাহায্যের কমতে থাকে না। পরিবারের কেউ ভুল কাজ করে থাকলে তাকে শাস্তি না দিয়ে বোঝানোর মাধ্যমে ক্ষমা করে দেওয়ার মনোভাব একটি আদর্শ পরিবার এর অন্যতম কার্যাবলি। এই আধুনিক যুগে সবাই এখন যন্ত্র হয়ে গেছে কিন্তু একটি আদর্শ পরিবার এ ক্ষেত্রে অন্যতম কার্যাবলি পরিবারের সব সদস্য একে অন্যকে যথেষ্ট পরিমাণ সময় দেয়।

পারিবারিক বন্ধন ভেঙে যাচ্ছে বলেই আমাদের সামাজিক নানা সমস্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বাড়ছে অস্থিরতা। ধর্মীয় বিধানেও রক্তের সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখার ওপর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

আজকের এই আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে, পরিবারের প্রতিটি সদস্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য অক্ষুণ্ন থাকুক-প্রতিটি পরিবারে বিরাজ করুণ অনাবিল সুখ শান্তি।

বাবা কাজে গেলে কখন আসবে পথ পানে চেয়ে থাকে ছোট্ট মেয়েসহ পরিবারের সবাই। প্রিয় বাবাকে নিয়ে এই উৎকণ্ঠা কেবল পরিবারেই সম্ভব। ছেলে পড়তে যাবে, এগিয়ে এসে যানবাহনে উঠিয়ে দেন বাবা। ছেলে যাওয়ার পথে যতক্ষণ চোখ যায় তাকিয়ে থাকেন মা। অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আগেই আঁচলে চোখ মোছেন মা। খেয়ে না খেয়ে ছেলের টাকা হাতে তুলে দেন প্রিয় বাবাই। নিজের জীবন বিপন্ন করে সন্তানকে বাঁচাতে চান মা-বাবা। মায়ের বিলাপ, বাবার অশ্রু আর ভাইবোনের কান্না-এটাই, তো পরিবারের দৃশ্য। এমন রক্তের, হৃদয়ের, মমতার ও ভালোবাসার বন্ধন একমাত্র পরিবারেই আছে।

মানুষ যত প্রাচুর্যের মধ্যে ডুবে থাকুক না কেন, যদি তাদের পাশে পরিবারের সদস্য ( ভাই বোন,এবং তাদের সন্তান) কোনো আত্মীয় স্বজন না থাকে, তারা সর্বদা হতাশায় ভোগে। তাই পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষার প্রতি বিশেষ জোর দিয়েছেন। এবং সেখানে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারীদের বিবেকবান বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ইরশাদ হয়েছে, ‘(তারাই বিবেকবান) আল্লাহ যে সম্পর্ক অক্ষুণ্ন রাখতে আদেশ দিয়েছেন, যারা তা অক্ষুণ্ন রাখে এবং তাদের প্রতিপালককে ভয় করে, আর ভয় করে কঠোর হিসাবকে।
(সুরা : রাদ, আয়াত : ২১)

আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘আমি নবী করিম (সা.)-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি তার রিজিক প্রশস্ত ও আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৫৫৯)
আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণের একটি। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন, ‘ক্ষমতা লাভ করলে সম্ভবত তোমরা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করবে এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। এদের প্রতি মহান আল্লাহ অভিসম্পাত করেন, অতঃপর তাদের বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন করেন।’ (সুরা : মুহাম্মদ, আয়াত : ২২-২৩)

জার্নাল অব ফ্যামিলি সাইকোলজিতে প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, যাদের পারিবারিক বন্ধন বেশ শক্তিশালী, তারা তুলনামূলকভাবে রোগে কম আক্রান্ত হচ্ছেন।
সমীক্ষাটির প্রধান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের সহযোগী অধ্যাপক সারারাহ বি উডস বলেন, আমরা দেখেছি পরিবারের আবেগঘন পরিবেশ ব্যক্তির স্বাস্থ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

মনের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব বা ভিন্ন মত থাকলে তা নিজের মধ্যে লুকিয়ে রেখে খোলাখুলিভাবে সবাই মিলে সে বিষয়ে কথা বলুন৷ পারিবারিক দ্বন্দ্ব এড়াতে সরাসরি আলোচনা করুন।

ছেলে-মেয়ে, মা-বাবা সবার বিশেষ দিনগুলো বা জন্মদিন সবাই মিলে উদযাপন করতে পারেন৷ এই দিনটির মাধ্যমে তাকে সুন্দর করে বুঝিয়ে দিন যে, পরিবারে তার মূল্য অন্যাদের চেয়ে কোন অংশে কম নয়৷ অসুখ হলে একে অপরের প্রতি যত্ন নিন।

প্রশংসার রীতি চালু করা

পরিবারের সবাই যাতে একে অপরের ভালো কাজ বা গুণের প্রশংসা করে, সেই রীতি চালু করুন। রাতে ঘুমানোর আগে কিংবা খাবার টেবিলে অন্যজনের প্রশংসা করতে পারেন। শুধু ‘ধন্যবাদ’ দিয়ে দায়িত্ব শেষ না করে তার ভালো দিকটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করুন। মানসিক সমর্থন বা সহায়তামূলক কাজের জন্য আমরা যদি পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত প্রশংসা করি, তাহলে পারিবারিক সম্পর্কের গতিশীলতা বাড়বে এবং একে অপরের কৃতিত্বকে স্বীকৃতির গুরুত্বও অনুধাবন করা যাবে।

পারিবারিক সহিংসতা, ভুল বুঝা বুঝির কারণে সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, দাম্পত্য কলহ, মাদকাসক্তি, অবৈধ সম্পর্ক, পরকীয়া ইত্যাদি উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। স্বামী খুন করছে স্ত্রীকে অথবা স্ত্রী খুন করছে স্বামীকে। পারিবারিক সহিংসতার কারণে কেউ কেউ বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথকে।

১৯৯৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৫ মে বিশ্ব পরিবার দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। জাতিসংঘ ১৯৯৪ সালকে আন্তর্জাতিক পরিবার বর্ষ ঘোষণা করেছিল। যৌথ পরিবারের ঐতিহ্য ধরে রাখার মানসিকতা সৃষ্টির লক্ষে জাতিসংঘের মতে, দিনটি পরিবার সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর এবং পরিবারগুলোকে প্রভাবিত সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং জনসংখ্যার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ানোর একটি সুযোগ সরবরাহ করে। ১৯৯৬ সাল থেকেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

আমাদের সবার নাগরিক ব্যস্ততার মধ্যে পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখার ক্ষেত্রে এই পরিবারের উদ্যোগ অনুকরণীয় হতে পারে। কারণ বছরে অনন্ত একবার সাবার সাথে দেখা হলেও আন্তরিকতা ও সম্পর্কের বন্ধন দৃঢ় হয়। ছোট ছোট মনোমালিন্য দূর হয়, মনোমালিন্যের জন্যই অনেক যৌথ পরিবার ভেঙে যাচ্ছে।

সবকিছু স্ত্রীর ওপর চাপিয়ে দেবেন না: পুরুষ মানেই মনে করা হয় রাজা-টাজা টাইপের কিছু। আর নারী যেন তার সেবাদাসী। পুরুষ শুধু আদেশ করবে, নারী তা নির্দ্বিধায় পালন করে যাবে। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা এরকম না। একপাক্ষিক না। এখানে উভয়েরই আছে দায়িত্ব-কর্তব্য, আছে একে অপরের ওপর অধিকার। ইসলামের দৃষ্টিতে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা পারস্পরিক সহযোগিতামূলক। রাসূল (সা.) শুধু বসে বসে আদেশ করতেন না। কিছু কাজ নিজেই করে নিতেন। নিজের কাপড় নিজেই সেলাই করতেন। নিজের জুতা নিজেই তালি লাগাতেন। এছাড়াও ঘরোয়া অন্যান্য কাজ করতেন, যেগুলো অন্যান্য পুরুষেরা করে না। (আহমাদ, আলমুসনাদ : ২৪৯০৩)।

এই নশ্বর পৃথিবীতে মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ আশ্রয়স্থল তার নিজস্ব পরিবার। যাদের পারিবারিক আশ্রয় থাকে না বা নষ্ট হয়ে যায় তাদের হতাশার অন্ধকারে তলিয়ে যাওয়াটা অনিবার্য। অন্তত আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিতে এটাই সত্যি। আপনি মানেন বা না মানেন, কারো জন্ম যদি একটা সুনির্দিষ্ট পরিবারে হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যক্তি নিঃসন্দেহে একজন ভাগ্যবান।

একটি পরিবারে সবারই কিছু দায় থাকে, কিছু কর্তব্য থাকে। আমাদের সমাজের খুব সাধারণ একটা পারিবারিক গঠন যদি আমরা চিন্তা করি; সেখানে স্বাভাবিকভাবে একজন মা, একজন বাবা এবং ভাই-বোন থাকে। খুব সাদাসিধা মধ্যবিত্ত একটা জীবনধারায় যেভাবে পরিবারগুলো চলে তাদের চিত্র প্রায় একই রকম।

পরিবারের বন্ধন অটুট রাখাই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আজ আপনার মনে হতে পারে এটা কোনো ব্যাপার হলো। কিন্তু একটু মনোযোগ সহকারে আপনার চারপাশে খেয়াল করুন, গত ২০-৩০ বছর আগে হয়তো আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল না। কিন্তু পারিবারিক বন্ধনের দৃঢ়তা ছিল, আন্তরিকতা ছিল, ছিল প্রাণ, ছিল একের প্রতি অন্যের অসীম টান। আজ হয়তো আর্থিক স্বচ্ছলতা অনেক গুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই প্রাণের স্পন্দন কোথায় যেন মলিন হয়ে গেছে; ফিকে হয়ে গেছে আন্তরিকতা।ব

র্তমানে যৌথ পরিবার ভেঙে যাচ্ছে কী কারণে-

১. মানুষের মধ্যে মূল্যবোধের অবক্ষয়

২. মেয়েদের কর্মমুখী হয়ে পড়া

৩. চাকরি ও ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনার জন্য শহরে ভিড় জমানো

৪. পারিবারিক কলহ

৫. শিক্ষার অভাব

৬. জায়গার অভাব৭

. পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ

৮. আত্মকেন্দ্রিক প্রবণতা বৃদ্ধি

৯. সুযোগ-সুবিধা যৌথ পরিবারে কম এবং কোলাহলপূর্ণ বলে।


যৌথ পারিবারিক কাঠামো ভেঙে একক পরিবারের মাঝেই এখন মানুষ স্বস্তি খুঁজছে, স্বাধীনতা খুঁজছে। কিন্তু সত্যিই কী মিলছে, স্বস্তি, স্বাধীনতা এমন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সহজ কোনো উত্তরও মিলছে না।

স্বামীর মা-বাবাকে নিজের মা-বাবার মতো সম্মান-মর্যাদা ও সমীহের চোখে দেখা তার কর্তব্য। মনেপ্রাণে তাদের ভালোবাসা এবং তাদের সেবাযত্ন করাতার কল্যাণ ও সৌভাগ্যের কারণ হবে। অনুরূপ শ্বশুর-শাশুড়িও পুত্রবধূকে নিজের মেয়ের মতো আদরযত্ন ও খাতির করা এবং তার সুখ-সুবিধার প্রতি বিশেষ লক্ষ্য রাখা জরুরি।

যৌথ পরিবারগুলোতে পুত্রবধূরা শ্বশুর-শাশুড়ির সেবাযত্ন করে থাকেন। এটাকে অনেকে পারিবারিক দায়িত্ব হিসেবেও মনে করা হয়ে থাকে। এটা আমাদের সমাজের আবহমান কালের রীতি।

বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়, শ্বশুর-শাশুড়ির সংসার থেকে আলাদা হলেও পুত্রবধূ তাদের দেখাশোনা করেন। শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করার এ রীতি সাহাবায়ে কেরামের জীবনেও দেখা যায়। কাবশা বিনতে কাব বিন মালেক (রা.) ছিলেন আবু কাতাদা (রা.)-এর পুত্রবধূ। কাবশা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার আবু কাতাদা (রা.) [কাবশা (রা.)-এর শ্বশুর] ঘরে প্রবেশ করেন। ঘরে প্রবেশ করে তিনি অজুর পানি খোঁজ করেন। তখন কাবশা (রা.) শ্বশুরকে নিজ হাতে পানি ঢেলে দেন। (আবু দাউদ, হাদিস নং : ৭৫)

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০  
error: protected !!

Copyright© 2025 All reserved