চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন ডেবারপার এলাকায় বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষে দলীয় আধিপত্য কর্তৃত্ব বিস্তারে আহত যুবদল নেতা জিহাদের মৃত্যু হয়। এলাকায় শোকের ছায়া। জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় ভয়ে আতঙ্কে নিরাপত্তাহীনতায় এলাকাবাসী। মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আবারো সংঘর্ষ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে দলীয় গ্রুপের নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) ভোরে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। ময়না তদন্তাধীন লাশ মর্গে রয়েছে।
ঘটনাক্রমে, বাদী মোঃ কামাল হোসেন (৪৪), থানা- খুলশী থানায় আসামীদের বিরুদ্ধে ১৫ জন চিহ্নিত আসামি সহ অজ্ঞতনামা ২০/২৫ জনের নামে অভিযোগ করে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামীরা এলাকার সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ প্রকৃতির লোক। আমি একজন সিএনজি চালক। এলাকার পরিচিত ছোট ভাই জিহাদ (৩২) যুবদলের কর্মি। গত ২০/০৩/২০২৫ খ্রিঃ রাত্রে ছোট ভাই জিহাদ জিইসির মোড়ে ব্যানার লাগানোর জন্য বাশের ফ্রেম লাগায়। অতপর বিবাদীরা আমাদের বাশের ফ্রেম ভাঙ্গিয়া আসামীদের ব্যানার লাগায়। অদ্য ইং ২১/০৩/২০২৫খ্রি জিইসির মোড়ে আসামীদের ইফতার পার্টি ছিল। একই তারিখ সন্ধায় ছোট ভাই জিহাদ খুলশী থানাধীন জিইসির মোড়ের উত্তর পার্শ্বে রাস্তার উপর আসামীদেরকে পাইয়া আমাদের ব্যানার লাগানের বাশের ফ্রেম ভাঙ্গার কারণ জানতে চাইলে আসামীদের সাথে জিহাদের কথা কাটাকাটি হতেথাকে। তখন আমি আমার সিএনজি গ্যারেজে রাখিয় বাসায় ফেরার পথে জিহাদের সাথে আসামীদের কথাকাটাকাটি দেখিয়া জিহাদের কাছে জানতে চাই কি হয়েছে এখানে। তখন বিবাদীরা আমার উপর ক্ষিপ্ত হইয়া আমাকে বলে তুই কে? এইকথা বলিয়া আমি কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই সকল আসামীরা আমার ও জিহাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা করিয়া এলোপাথারীভাবে কিল ঘুষি লাথি মারিয়া আমাদের শরীরের বিভিন্নস্থানে নিলাফোলা জখম করে। ২নং আসামী সাইদুল (৩২) এর হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হত্যা করার উদ্দেশ্যে আমার পেট লক্ষ্য করিয়া ঘাই মারিলে আমি একটু ঘুরে গেলে উক্ত ঘাই আমার বাম নিতম্বের উপরে লাগিয়া গুরুত্বর কাঁটা রক্তাক্ত জখম হয়। তখন আমি ও জিহাদ জীবন বাঁচানোর জন্য দৌড় দিয়ে কুসুমবাগ আবাসিক এলাকার দিকে চলে আসি। তখন আমার নিতম্ব দিয়ে প্রচুর রক্ত ক্ষরনের ফলে আমি কুসুমবাগ এলাকায় রাস্তায় পড়ে গেলে আশপাশের লোকজন আমাকে সিএনজি করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ নিয়ে ভর্তি করে। উক্ত ঘটনার জের ধরিয়া পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ১নং
আসামীরা হলো নুর আলম সোহাগ (২৬), সাং- মুক্তিযোদ্ধা আবাসিক, মুরগি ফার্ম, ২। সাইদুল (৩২), ৩। রাজু (৩৫), সাং-বরিশাইল্যা কলোনী, কুসুমবাগ আয়েশা মসজিদের সামনে, ৪। রায়হান (৪২), কুসুমবাগ আবাসিক, আমেরিকান জামাল সাহেবের বাড়ি, ৫। জহির (৩৫), -কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা, জুনু পাগলার বাড়ি, ৬। রমিজ (৩৫), গরীবুল্লাহশাহ হাউজিং সোসাইটি, আরিফ সাহেবের বাড়ির সামনে, ৭। জিয়া উদ্দিন রনি (৩৫), সাং-মতিঝর্না, , ৮। শরীফুল ইসলাম তুহিন (৩৭), সাং-দক্ষিন ডেবার পাড়, কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা, ফিরোজ সাহেবের বাড়ি, আজিম উদ্দিন রনি (২৭) পিতা- অজ্ঞাত, সাং- লালখান বাজার,, ১০। ইলিয়াছ (৩৫), পিতা- অজ্ঞাত, বর্তমান সাং-ডেবার পাড় কাঁচা বাজার মাছের দোকান, ১১। খোরশেদ (৪৫), পিতা- চারু মিয়া, বর্তমান সাং- গরীবুল্লাহশাহ হাউজিং আকবর সাহেবের বাড়ি, ১২। সুমন (৩০), সাং-কুসুমবাগ আবাসিক এলাকা, আয়েশা মসজিদের সামনে, হাসান সওদাগরের বাড়ি, ১৩। আবুল হাসেম (৩৪)-জাকির সাহেবের বাড়ির নিচে ফলের দোকান,১৪। কালু (২৮), সাং-বরিশাইল্যা কলোনী, কুসুমবাগ আয়েশা মসজিদের সামনে, থা ১৫। ইব্রাহিম (২৬), সাং-অজ্ঞাত,(৩৫), ১৭। সবুজ (৩৫), সাং-কুসুমবাগ আবাসিক, সর্ব থানা- খুলশী থানা
সহ অজ্ঞতনামা ২০/২৫ জন।
ঘটনাক্রমে ২১মার্চ সন্ধায় ১ম ঘটনাস্থলঃ খুলশী থানাধীন জিইসির মোড়ের উত্তর পার্শ্বে রাস্তার উপর। ২য় ঘটনাস্থলঃ খুলশী থানাধীন কুসুমবাগ আবাসিক এলাকায় সোহেল টেলিকমের সামনে রাস্তার উপর।