অন্তবর্তীকালীন সরকারের বিশেষ নিয়োগে দায়িত্বপ্রাপ্ত দীর্ঘ ১৮মাস আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইব্যুনালে জনগণকে বিচারের সর্বশেষ আপডেট দিয়ে জুলাই বিপ্লব গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তির কাছে তিনি হয়েছেন সম্মানিত ও ইতিবাচক আলোচিত। দেশের ইতিহাস ও রাজনৈতিক ইতিহাসে যা ছিল বিস্ময়কর আশ্চর্য অবাক করার মত নতুন চমক। অবিস্মরণীয় ও যুগান্তকারী রায়। যা ইতিহাস হয়ে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম।
নতুন সরকারের সপ্তাহ না যেতেই এমন সিদ্ধান্ত জনমনেও সৃষ্টি হয় তীব্র আগ্রহ যা আলোচিত সমালোচিত সর্বস্তরের মানুষের মুখে মুখে দেশ-বিশ্বে সর্বত্র। সব বাধা ঝুঁকি উপেক্ষা করে হাসিনার অবিশ্বাস্য বিস্ময়কর মৃত্যুদণ্ডের নেপথ্যের অন্যতম ব্যক্তিত্ব হিসাবে তিনি হয়েছেন সকলের কাছে শীর্ষ আলোচিত ও পরিচিত। আজ তাকেই হতে হলো পথ বঞ্চিত। যার কারণে নানা গুঞ্জন সমালোচনা একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় গণমাধ্যম মানুষের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে সর্বোচ্চ।
সোমবার, দেশের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রক থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই তথ্য জানানোর পর থেকে জনমনে শুরু হয় জল্পনা কল্পনা নানা গুঞ্জন।
দেশি-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র ষড়যন্ত্র চ্যালেঞ্জিং সত্ত্বেও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরী করতে যে ব্যক্তি অন্যতম অবদান তাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করে। যাদের কারণে কার্যকর হয় তার মধ্যে অন্যতম তাজুল ইসলাম। হাসিনার ফাঁসি ইস্যুতে সর্বমহলে শীর্ষ আলোচিত সমালোচিত হয় দেশ বিশ্বে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর মহম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দিলেন । তাজুলের জায়গায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে আনা হয়েছে আইনজীবী মহম্মদ আমিনুল ইসলামকে।
বাংলাদেশের এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলাগুলির বিচারের দায়িত্বে ছিল। তারাই হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ অগস্ট হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে চলে এসেছিলেন। ৮ অগস্ট দায়িত্ব নিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ওই বছরের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে তাজুলকে নিয়োগ করেছিলেন ইউনূস। সোমবারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ থেকে তাজুলের নিয়োগ বাতিল করা হল। পরবর্তী নির্দেশ না-আসা পর্যন্ত ওই পদে থাকবেন আমিনুল। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, বেতন এবং অন্যান্য সুযোগসুবিধা পাবেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন যে সমস্ত জামাত নেতা, তাঁদের পক্ষে মামলা লড়েছিলেন এই তাজুল। তাঁদের পক্ষে আদালতে তিনি সওয়াল করেছেন। আবার, তাঁর সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। তিনি এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাইবুনালে প্রথম সওয়াল করেছিলেন। কেন তাঁকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হল, স্পষ্ট নয়। তাজুল নিজেও এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি।
বাংলাদেশের ভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন তারেক। তার পর প্রশাসনে একাধিক রদবদল করেছেন। ভারত থেকে হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের প্রতি তাঁর সরকার কী নীতি নেয়, তা নিয়ে কৌতূহল রয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক বার হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছে। কিন্তু নয়াদিল্লি এখনও কোনও জবাব দেয়নি।





