৮ মার্চ ২০২৬ – আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও সচল রাখতে নিয়োজিত ৩০০ জন প্লাস্টিক পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে সম্মাননা জানিয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) । কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনের সহায়তায় এবং ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (YPSA)-এর সাথে যৌথ অংশীদারিত্বে ৮ মার্চ চট্টগ্রামে এই অনুষ্ঠানটি উদযাপিত হয় ।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৪টি এলাকায় স্থাপিত স্বাস্থ্য ক্যাম্পের মাধ্যমে এই সেবা প্রদান করা হয় । ক্যাম্পগুলোর মাধ্যমে মোট ৩০০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে সেবা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২৩০ জন নারী এবং বাকিরা তাদের পরিবারের সদস্য ও পুরুষ কর্মী। এই ক্যাম্পগুলোতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্ক্রিনিং, চিকিৎসকের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা হয় । অংশগ্রহণকারী নারীরা হাইজিন ও মর্যাদা সুরক্ষা কিট (Dignity Kit) গ্রহণের পাশাপাশি প্রজনন ও মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে ব্যক্তিগত পরামর্শের সুযোগ পান । অনানুষ্ঠানিক খাতের এই কর্মীদের জন্য এ ধরণের সহায়তা সচরাচর সহজলভ্য হয় না, যারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত থাকেন ।
অনুষ্ঠানে এই নারীদের “সম্মুখসারির পরিবেশ যোদ্ধা” হিসেবে অভিহিত করা হয় এবং শহরের জলাশয়, ড্রেন ও উপকূলীয় অঞ্চলকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত রাখতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অথচ পর্দার অন্তরালে থাকা অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয় ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পর্বতারোহী ড. বাবর আলী বলেন, “জেন্ডার সমতাকে সমর্থন করার অর্থ হলো সেইসব নারীদের সুস্বাস্থ্য ও মর্যাদায় বিনিয়োগ করা যারা প্রতিদিন আমাদের পরিবেশ রক্ষা করেন । ইউএনডিপি-র এই ধরণের উদ্যোগ আরও বড় পরিসরে এবং বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইয়াং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (YPSA)-এর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আরিফুর রহমান একটি স্বাস্থ্য ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের উদ্যোগ সরাসরি উপকারভোগীদের দোরগোড়ায় প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেয়। প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি প্রজেক্টের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে আমরা ভবিষ্যতে এই ধরণের আরও কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছি। এই প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য আমরা কোকা-কোলা ফাউন্ডেশনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে, প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি প্রজেক্ট দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষায় ৬০০ জন নারীসহ মোট ২,০০০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় নিয়ে আসবে । এছাড়া চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও টাঙ্গাইল জুড়ে নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে ।
প্লাস্টিকস সার্কুলারিটি প্রজেক্টের প্রজেক্ট ম্যানেজার সৈয়দ মনজুরুল হক বলেন, “কেবল স্বীকৃতির মধ্যেই আমাদের লক্ষ্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং আমরা এই অপরিহার্য কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছি। স্বাস্থ্য বীমা এবং পিপিই (PPE) ব্যবহার ও স্ট্রেসের মতো পেশাগত ঝুঁকি বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি যে, যারা আমাদের পরিবেশ রক্ষা করেন তারা যেন নিজেদের কাজে সুরক্ষিত থাকেন।”
সার্কুলার ইকোনমি বা অর্থনীতিতে স্বাস্থ্যসেবা ও প্রশিক্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে ইউএনডিপি এবং এর অংশীদাররা এমন একটি মডেল গড়ে তুলছে যা কেবল পৃথিবীকে নয়, বরং পৃথিবীকে রক্ষাকারী নারীদেরও সুরক্ষা দেয় ।






