চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ওমন সানি আকন বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি এবং সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ফার্ম স্কুলের মতো উদ্যোগ কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক শেখার সুযোগ সৃষ্টি করে। এর মাধ্যমে কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে নতুন প্রযুক্তি ও কৃষি ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন, যা স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
১৫ মার্চ (রবিবার )বাঁশখালী উপজেলার বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ফার্ম স্কুল অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক শিখন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিসের অর্থায়নে, সেভ দ্য চিলড্রেনের সহায়তায় এবং রাইম এর কারিগরি সহায়তায় ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন (ইপসা) বাস্তবায়িত “Child Centred Anticipatory Action for Better Preparedness of Communities and Local Institutions in Northern and Coastal Areas of Bangladesh” প্রকল্পের উদ্যোগে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
বাঁশখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শ্যামল চন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কেএম সালাহ উদ্দিন কামাল এবং বাণীগ্রাম সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম মঈন উদ্দিন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন ইপসার প্রজেক্ট ম্যানেজার (অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন) সানজিদা আক্তার, সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা ফারাবী আকাশ এবং প্রজেক্ট অফিসার মাহিনুর আক্তার। কৃষি বিষয়ক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সহকারী প্রজেক্ট অফিসার মো. বেলায়েত হোসেন। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন মুহাম্মদ আতাউল হাকিম।
বক্তারা বলেন, ফার্ম স্কুল কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক কৃষি পদ্ধতি, আবহাওয়া সংক্রান্ত তথ্য এবং দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতন হচ্ছেন।
সম্মেলনে ফার্ম স্কুলের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা প্রদান, কৃষকদের সফলতার গল্প উপস্থাপন এবং কৃষি ক্ষেত্রে আবহাওয়ার প্রভাব ও আগাম প্রস্তুতি বিষয়ে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য কুইজ প্রতিযোগিতা, কৃষকদের জন্য কাবাডি খেলা এবং কৃষাণীদের জন্য ঝুড়িতে বল নিক্ষেপসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রায় ১৩০ জন কৃষক-কৃষাণী, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।





