ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ৫ চৈত্র, ১৪৩২, ২৯ রমজান, ১৪৪৭
সর্বশেষ
চট্টগ্রামে জুয়া বিরোধিতায় স্বামী-স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম
হাটহাজারীতে উপজেলা প্রশাসনের ৪ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার
হাটহাজারীতে প্রবাসীর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা প্রাণনাশের হুমকি অভিযোগকারী নিরাপত্তাহীনতায়
পতেঙ্গায় চাঁদাবাজি নানা অপকর্মকাণ্ডে জনমনে তীব্র ক্ষোভ উদ্বেগ, লোক দেখানো অভিযান :প্রশাসন নীরব
ঈদে মানবতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের মহিমান্বিত বার্তা প্রতিষ্ঠার আহ্বান: মোঃ সবুজ সরদার
ঈদ সাম্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়: মনির হোসেন
অমর একুশে বইমেলার শেষদিনে বাবার কোলে উঠে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শিশু শেহজাদ’
পরিচ্ছন্ন কর্মচারীর ঈদ উপহারে রেকর্ড প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চমক ! চসিক ইতিহাসে প্রথম
বাঁশখালীতে ফার্ম স্কুলের অভিজ্ঞতা বিনিময় ও পারস্পরিক শিখন সম্মেলন অনুষ্ঠিত
হাটহাজারীতে সশস্ত্র হামলা লুটপাট হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা:ভুক্তভোগী নারী

প্রচ্ছদ >

uncategorized

হাটহাজারীতে প্রবাসীর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা প্রাণনাশের হুমকি অভিযোগকারী নিরাপত্তাহীনতায়

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা নারী নির্যাতনের অপচেষ্টা প্রাণনাশের হুমকিতে ভুক্তভোগীর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা জীবনঝুঁকিতে।  এলাকাজুড়ে ভয়-উদ্বেগ ভুক্তভোগী অভিযোগকারী পরিবারে প্রতিটা মুহূর্তে অনিশ্চয়তা আতঙ্ক বিরাজ করছে। একটি প্রভাবশালী মহল সিন্ডিকেটের ভয়াবহ তাণ্ডবে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, মাদক ব্যবসা এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক এক ঘটনায় বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। এক প্রবাসীর পরিবারের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা, ভাংচুর, নারী নির্যাতনের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্র দীর্ঘদিন ধরে পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করে আসছে এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, হাটহাজারী থানাধীন ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়নের খন্দকিয়া এলাকার বাসিন্দা মোছাঃ শামসুর নাহার (৫৫), স্বামী মৃত ইছহাক, পিতা বদল মিয়া, তিনি হাটহাজারী মডেল থানায় উপস্থিত হয়ে একটি বিস্তারিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, তার ছেলে মোঃ আরমান (৩৪) দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটিয়ে সম্প্রতি দেশে ছুটিতে আসেন। দেশে ফিরে তিনি পরিবার নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস ও ব্যবসা পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিলেন।

কিন্তু দেশে ফেরার পর থেকেই তিনি আবারও পূর্বের শত্রুতার মুখোমুখি হন। অভিযোগে যাদেরকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন জানে আলম ওরফে কালু (৪৫), পিতা মৃত জাফর সওদাগর; মোঃ ওসমান (২২), পিতা জানে আলম কালু; উভয় সাং খন্দকিয়া, জাফর সওদাগরের বাড়ি, ০৯নং ওয়ার্ড, ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়ন, থানা হাটহাজারী, জেলা চট্টগ্রাম; এছাড়া মোঃ বেলাল (৪৪), পিতা মোঃ ফকির; মোঃ কাদের (৫০), পিতা মৃত আব্দুর রহমান; মোঃ ছৈয়দ (৪০), পিতা মৃত শফি; সর্ব সাং পশ্চিম বাথুয়া, ১৪নং শিকারপুর ইউনিয়ন, থানা হাটহাজারী, জেলা চট্টগ্রাম; এবং তাদের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তার ছেলে পূর্বে দেশে ইট, বালি ও সিমেন্টের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সেই সূত্র ধরে আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হতো, অপমান করা হতো এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হতো। বিদেশে থাকার সময়ও তার পরিবার এই চাপে ছিল বলে জানা যায়।

দেশে ফেরার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। প্রবাসী আরমানকে লক্ষ্য করে পুনরায় চাঁদা দাবি করা হয় এবং তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এলাকায় ব্যবসা করতে হলে নিয়মিত টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তাকে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য করা হবে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার সময় উল্লিখিত আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসী নিয়ে দেশীয় অস্ত্র যেমন দা, ছুরি, লাঠি, হকিস্টিকসহ বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্র নিয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বেআইনিভাবে বাড়ির উঠানে প্রবেশ করে এবং উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করে।

তারা মোঃ আরমানের নাম ধরে ডাকতে থাকে এবং তাকে বের হয়ে আসার জন্য হুমকি দেয়। সেই সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য উপস্থিত না থাকায় শামসুর নাহার ও তার পরিবারের নারী সদস্যরা আতঙ্কে ঘরের ভিতরে আশ্রয় নেন।
কিন্তু সন্ত্রাসীরা এতে ক্ষান্ত না হয়ে জোরপূর্বক দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ঘরের ভেতরে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। একটি স্টিলের আলমিরার আয়না ভেঙে ফেলে এবং ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে। এতে প্রায় ৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু ভাংচুরেই থেমে থাকেনি সন্ত্রাসীরা। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের সদস্যরা প্রতিবাদ করলে তাদের উপর হামলা চালানো হয়। শামসুর নাহারসহ তার বড় পুত্রবধূ জান্নাতুল ফেরদৌস (৩০) এবং মেঝো পুত্রবধূ জান্নাত (২৮)-কে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাকারীরা তাদের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে, যা এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার এক পর্যায়ে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে শুরু করলে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে যাওয়ার সময় তারা একাধিক গুরুতর হুমকি দিয়ে যায়। তারা জানায়, মোঃ আরমানকে যেখানে পাবে সেখানেই তাকে মারধর করবে, তার হাত-পা ভেঙে দেবে এবং ভবিষ্যতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবে।

এছাড়া তারা মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা, অপহরণ, গুম এবং হত্যার হুমকিও প্রদান করে। এসব হুমকির কারণে ভুক্তভোগী পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ভুক্তভোগী মোঃ আরমান বলেন, আমি দীর্ঘদিন বিদেশে কষ্ট করে উপার্জন করেছি। দেশে ফিরে ভেবেছিলাম পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকব এবং ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করব। কিন্তু এখানে এসে দেখি সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজির কারণে কোনোভাবেই ব্যবসা করা সম্ভব নয়। ব্যবসা শুরু করলেই তারা টাকা দাবি করে এবং না দিলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়। তিনি আরও বলেন, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এতটাই বেপরোয়া যে তারা কথায় কথায় মানুষের উপর ছুরি নিয়ে হামলা করে। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। আমরা এখন এমন অবস্থায় আছি যে, নিজের এলাকায় থেকেও নিরাপদ নই।

তিনি আরও জানান, বিদেশে থাকার কষ্ট থাকলেও অন্তত নিরাপত্তা ছিল, কিন্তু দেশে এসে এখন জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি আবার বিদেশে ফিরে যাওয়ার কথাও ভাবছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক বছর ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। চাঁদাবাজি এখন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসা করতে গেলে বাধ্য হয়ে চাঁদা দিতে হয়, অন্যথায় হামলার শিকার হতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, আগে এই এলাকা শান্তিপূর্ণ ছিল, কিন্তু বর্তমানে সন্ত্রাসীদের কারণে কেউ নিরাপদ নয়। তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাফেরা করে এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়।

একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, ব্যবসা করতে গেলেই চাঁদা দিতে হয়। না দিলে দোকানে হামলা চালানো হয়। আমরা এখন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।

প্রতিবেদকের হাতে থাকা একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে, কিছু সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে লুটপাট চালাচ্ছে। এসব ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে আরও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান বলেন, যদি কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক ব্যবসা বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকে এবং তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ভুক্তভোগীদের থানায় এসে সরাসরি অভিযোগ করতে বলা হয়েছে এবং কেউ যদি জিডি বা লিখিত অভিযোগ করে থাকে তাহলে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা ভুক্তভোগীদের আমার কাছে পাঠান, আমি তাদের কথা শুনব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সত্য তথ্য তুলে ধরুন, এতে করে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আরও উৎসাহিত হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত এসব সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। তারা বলেন, প্রশাসন যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অপরাধ সংঘটিত হতে পারে। স্থানীয়রা আরও জানান, তারা বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং দ্রুত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

এলাকাবাসীর ভাষায়, তারা আর ভয় নিয়ে বাঁচতে চান না। তারা একটি নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে চান, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য নির্বিঘ্নে করা যাবে এবং পরিবার নিয়ে শান্তিতে থাকা যাবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে হাটহাজারীর এই এলাকাটি যেন এক নীরব আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।এখন দেখার বিষয়, প্রশাসন কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে এই অভিযোগের তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  

Copyright© 2025 All reserved