চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানাধীন তক্তারপুল এলাকায় মসজিদের পাশে জুয়ার আসর বন্ধে প্রতিবাদ করায় যুবদল নেতা মো. সুমন (৩৩) ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার চম্পার (২৯) ওপর কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় সুমনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের পাশেই একটি কিশোর গ্যাং নিয়মিত জুয়ার আসর বসিয়ে আসছিল। এতে মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে তারা বিষয়টি স্থানীয় যুবদল নেতা সুমনকে জানান। পরে সুমন তাদের সতর্ক করতে গেলে নাছির ও শওকতের নেতৃত্বে ১২-১৩ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— মো. নাছির (৩৫), শওকত (২৮), আরিফ (২৮), ফরহাদ (২৫), জোটন (২৭), রমজান (২৩), এনাম (২৪), বাদশা, শাহিন, শুভ, মুসা, জিসান ও ডিমারিয়া।
এছাড়া স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, এই কিশোর গ্যাং সদস্যরা সম্প্রতি অস্ত্র বেচাকেনার একটি কল রেকর্ড ভাইরাল হওয়া কথিত অস্ত্র ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাকির প্রকাশ আতুরী জাকিরের অনুসারী। এ ঘটনায় তারও সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সুমনের ওপর আক্রমণ চালায়। এ সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহত দম্পতিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহত সুমন জানান, “মসজিদের পাশে জুয়ার আসর বসানো নিয়ে মুসল্লিরা আপত্তি জানালে আমি তাদের পক্ষ থেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করি। কিন্তু তারা কথা না শুনে উল্টো আমাদের ওপর হামলা চালায়।”
তার স্ত্রী শারমিন আক্তার চম্পা অভিযোগ করেন, “আমার স্বামীকে বাঁচাতে গেলে কয়েকজন আমাকে জোর করে ধরে ফেলে। আমাকে মারধর করে এবং শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়।”
স্থানীয় যুবদল কর্মীরা জানান, খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সুমন ও তার স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, যুবদলের কয়েকজন কর্মী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, অভিযুক্ত এই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দ্বারা যেকোনো সময় তারাও হামলার শিকার হতে পারেন। তাদের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে এর সম্পূর্ণ দায় অভিযুক্তদের ওপরই বর্তাবে বলে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, হামলাকারীরা একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং তারা এলাকায় নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের গ্রেপ্তারের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।





