যৌবনের বেহায়া বিস্মরণ!
সপ্তাহখানেক ধরে এলোমেলো হয়ে খাটের কার্নিশে- ঝুলে থাকা পুরোনু জামাটার মতো
তুমিও আজ বড্ড এলোমেলো, তাতেও আমার বুকে বাজে যৌবনের বেহায়া বিস্মরণ!
ওগো, শ্যামা মেয়ে-
তোমার কালো হরিণ চোখের দ্রুতি আমাকে ভীষণ টানে,
যেমনটি দুর্ভিক্ষ পীড়িত পথিক কে টানে লঙ্গরখানার রুটি…..
আজ আমি তৃষ্ণার্ত প্রেমিক, তোমার রক্তজবা ঠোঁটে এঁকে দিতে চাই অজস্র চুম্বন!
বলতে পারো- বেলেল্লাপনাও মানুষের জীবনের অদ্ভুত অনুষঙ্গ!
গভীর রাতে যখন তোমার শায়া, শেমিজ আকাশের সাদা অংশের মতো উন্মোচিত হয়
নিশ্চিত করে বলতে পারি- জলের স্রোতধারার মতো
প্রবাহিত সঙ্গীত তখন হয়ে উঠে সুপ্রচীন শিল্পের কাঠামো।
রিনিঝিনি শব্দের সুরালয়ে, আনন্দের ঢেউ তুলে-
জান্তব যৌবনে তীব্রমধুর উন্মাদনা তখন সৃষ্টির বীজ বুনে।উত্তর প্রজন্ম জেনে যাক
এই শহরে মিছিলে মিছিলে জেগে উঠে ক্রোধ আর দাবী, বিরক্ত সব মুখোশ!
কতিপয় সাম্রাজ্যবাদীর পয়ঃ প্রণালী দিয়েও যদি আসে
দু’ মুঠো ভাত, নাক ডাকা নিরবিচ্ছিন্ন ঘুম তবে আসুক….
মুক্তির ভেতর কলঙ্ক হলেও সমস্ত দৃশ্যপট চুপ থাকবে!পুনশ্চঃ প্রবাহমান সব সংশয় ঝেড়ে ফেলে উম্মাদ প্রাণের স্পর্ধায় কিংবা
কোন এক লেলিহান ঝড়ে যদি জন্মনেয় নতুন কোন রূপরেখা
তবে কী দুর্ভাগা জাতির দুঃখ মুছে যাবে? কেটে যাবে অন্ধকার?
যদি তাই হয়, তবে….
উত্তর প্রজন্ম জেনে যাক পরিবর্তনের জন্যই বিপ্লব অপরিহার্য
কিংবা পুনর্জন্মের জন্য প্রতিবিপ্লবও হতে পারে।আর একটিও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু নয়
আর একটিও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু নয়,
পাথরে বুক ভেঙে যাক
স্টেশনের প্লাটফর্মে জমতে থাকুক দুঃখগুলো
প্রেম হাঁটুক সরীসৃপ হয়ে কিংবা বৃষ্টিতে ভিজুক প্রজন্ম….
তবুও আর একটিও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু নয়…..
যে মৃত্যু মায়ের চোখের জল মুছে দেয়না,
বাবার নিস্পৃহ চেতনায় জাগায় না ঢেউ…
তবে কেন সেই মৃত্যু?চিলের মতো অস্পষ্ট চোখ নিয়ে প্রজন্ম কতদূর যাবে?
ভাঁড়ামি শ্মশানে জ্বলবে কী সবুজ বাতি?
পরিত্যক্ত মাঠে রক্ত ঝরিয়ে দ্রোহের ভাষা কতটুকু কার্যকর জানিনা….
মৃত্যু- সেখানে বড়জোর একটি ছবি কিংবা সাংকেতিক চিহ্ন হতে পারে!!
প্রজন্ম- বুকের মধ্যে চাষ করুন বেঁচে থাকার সবুজ চুম্বন!
কেননা, মৃত্যুগুলো চোখ মেলে তাকাবেনা….
অন্তত; এদেশে মৃত্যুর উপর দাঁড়াবেনা আর কোনো মনুমেন্ট!মাটির ক্রন্দনে বেদনাহত হই
এই মাটির আস্বাদে মাঝেমধ্যে
শিশুর মতন হামাগুড়ি দিই
আঁতিপাঁতি করে ঘুরে বেড়ায়
গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে
পবনবেগে দ্বারস্থ হই এই মাটির শিয়রে,
আমার আত্মজার বুকে!এই মাটির গান-প্রেম-মায়ায়,
অন্তরিক্ষে ডুবে যায় প্রতিদিন।
এখানে ঝর্ণাতলায় স্নান করি,
ইচ্ছেমতো ভেসে বেড়ায়।তবুও যেনো আজ
এই মাটির ঋতুরুদ্ধদ্বারে
ছদ্মবেশী এক অন্ধকার!
ক্রমাগত বিস্তীর্ণ হতে থাকে
নব্য সামন্তপ্রভুর লম্বা হাত,
লীন হতে থাকে-
আধপোড়ানো মাটির বর্ণমালা।এখানে এখন ক্রমান্বয়ে
ভস্মিভূত হতে থাকে কালপুরুষ
এবং আমাদের অবগাহন কাল!রক্তাক্ত রাজপথে প্রিয়মুখ
কৈশোরকালে আমার মনে খুব বেশী
দোলা দিয়েছে যে কিশোরী, সরলা!
মন দিয়েছি স্বপ্নছোঁয়ায়! ছুঁতে পারিনি ।কত যে রাত দু-চোখে ঘুম ছিলনা!
সুন্দর সে মুখখানি জাগিয়ে রাখতো।স্মৃতি-বিস্মৃতির অতলে ডুবে ডুবে
আজো স্বপ্নের রঙ মেখে খুঁজে চলেছি।এইতো সেদিন স্বপ্ন রাতে…
যামিনি রায় অনবদ্য প্রোটেটে
বিন্যস্ত করে অবিকল সে মুখচ্ছবি!আজ হঠাৎ রাজপথে থমকে দাঁড়ালাম
দুঃস্বপ্ন হয়তোবা! সে প্রিয়মুখ-
রক্তাক্ত রাজপথে চিরতরে ঘুমিয়ে!চাঁদমাখা রাত্রিতে হুইসেল বাজে
একটি লাশ,
কিছু মানুষের জটলা এবং
গুটিকয় সাংবাদিকের উপস্থিতি।
যথারীতি পরদিন
খবরের কাগজে ছোট্ট একটি শিরোনাম
রাস্তার ধারে অজ্ঞাত যুবকের লাশ উদ্ধার!যুবকটি হয়তো আমি, কিংবা
আমার মতো অনকেউ
হতে পারে সে একজন বিপ্লবী
সমাজ ভাঙতে চেয়েছিল,
কিংবা
হতে পারে বেশ্যার দালাল,
সমাজ তাঁকে এই যায়গায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।এই শহরের বুকে যখন হাঁটতে থাকি
কতিপয় ছায়া আমাকে তাড়িয়ে বেড়ায়…
আমি তখন খুন হতে থাকি!চাঁদমাখা রাত্রিতে
শহরের বুকে তখন হুইসেল বেজে উঠে!ওলাবিবির রূপ!
এতটা অন্ধকার চোখ মেলে আগে কখনোই দেখিনি
বিষন্ন হাহাকার, শকুনের বির্ধস্ত চাহনী!
সম্মুখে মৃত- প্রাগৈতিহাসিক এক শহর।
মৃত প্রকৃতির বুকে উৎকট গন্ধ ভাসে,
নীল সরাপে- জমে গেছে হিম পাথরের ছায়া।
এশ্রাজের করুণ সুর-
সীমানা ভেদ করে চলে গেছে আরো দূর।
প্রিয়ার কালো চোখেও নিরাবরণ অন্ধকার!
আকাশ যেনো পুরনো ওলাবিবির রূপ।আমাদের চিন্তা এবং মৃত্যু উপত্যকা
একটি দূর্দান্ত একশন মুভির শুটিং চলছে
বহুতল ভবন থেকে হিরো, হিরোইনগণ লাফিয়ে পড়ছে
নন্দগোপালগণ হা করে তাকিয়ে দেখছি-
আহা, কি চমৎকার!
কি চমৎকার!
কেউকেউ আবার সেলফিবাজিও!অতপর; আমাদের চিন্তাগুলো
একের পর এক লুটিয়ে পড়ছে মৃত্যু উপত্যকায়!অতপর অধমগণ!
হুররম কিংবা মেহেরুননেছা হেরেম কূটনীতি কিংবা প্রাসাদ জয়ের নায়িকাগণ এবং এই সময়ে আমাদের সুশ্রী গৃহিণীদের মধ্যে মাঝেমাঝে মোলাকাত হয়!
আমরা অধমগণ মধু শুষে খাই, গন্ধ শুকি, অত;পর
ঢেঁকুর তুলতে তুলতে রূপের অতলে কিংবা দুই ইঞ্চি পরিমাণ জমির কর্ষনে, ঘর্ষণে নটিনী, তটিনীগণের তন্ত্রমন্ত্রে হেরে যায়;হুররম কিংবা মেহেরুননেছাগণ পুনঃ পুনঃ জীবিত হইয়া আমাদের সুশ্রী গৃহিণীদের কবজ লাগিয়ে দেয়
অতপর; আমরা অধমগণ বিষবাষ্পে পতিত হই।আমাদের বুক পকেট কিংবা সফেদ পাঞ্জাবী
ঘূর্ণাবর্তের মধ্যে দিয়ে বিশুদ্ধ হাওয়ারা পলায়নপর,
পেতাত্মা বলয়ের বার্তাবিশেষ,
একটি শক্তিশালী মতাদর্শকে রুখে দিতে কুকুর শ্রেণীর
বিষক্রিয়ার জনিত ভাইরাস ক্রমশ; ছড়িয়ে পড়ছে!সাদা সুরম্য প্রাসাদ থেকে অট্টহাসির রোল এবং
মস্তিস্ক বিকৃতির ধাঁধায় আটকে যাচ্ছে
আমাদের বুক পকেট কিংবা সফেদ পাঞ্জাবী!
