ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগর মহিলা কলেজের অভিভাবক সমাবেশ ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে অভিভাবক,শিক্ষর্থী ও কলেজের পরিচালনা পর্ষদের উপস্থিতিতে এই অভিভাবক সমাবেশ কলেজের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে৷
এসময়, অত্র কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শুক্লা রাণী দেব এর সভাপতিত্বে ও অত্র কলেজের শিক্ষক আশিস কুমার গুহ ও শিক্ষিকা শিউলী পারভীন এর যৌথ সঞ্চালণায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অত্র কলেজের অডহক কমিটির সভাপতি মোঃ সায়েদুল হক সাইদ। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাজীব চৌধুরী, বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক পরিচালক মাসুকুর রহমান খান, অত্র কলেজের শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কাজী ইয়াবার হাসান জামিল, অঞ্জন কুমার নাথ,জাকির হোসেন, ,ফরিদা ইয়াছ মিন, মমতাজ বেগম, অভিভাবকদের মধ্যে মক্তব্য রাখেন, আমির হোসেন, আবদুল মোতালিব চৌধুরী, মোছাঃ সাবিহা সিদ্দিকা শারমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অত্র কলেজের শিক্ষার্থী পূর্ণিমা, সুমাইয়া আক্তার, সাদিকা বেগম প্রমুখ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সায়েদুল হক সাইদ কলেজের ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা যে সময় লেখাপড়া করেছি এ সময় এত উন্নত ছিল না, ইলেকট্রিক্যাল বাতি ছিল না,মোবাইল ছিলনা, যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত ছিল না,সেই প্রতিকূল পরিবেশ ডিঙ্গিয়ে সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা জীবন শেষে নিজের প্রচেষ্টায় স্বাবলম্বী হয়েছি। আজকের আধুনিক ডিজিটাল যুগে যেখানে সবকিছুই হাতের মুঠোয় সেখানে তোমরা কেন পারবে না? তোমরা অবশ্যই পারবে, সেজন্য তোমাদের আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে এবং লক্ষ্য স্থির করতে হবে। লক্ষ্যটা হতে হবে বিশাল বড়, ধাপে ধাপে সেই বিশাল বড় লক্ষ্যে পৌঁছতে হলে সাহস এবং ধীর মনোবল থাকতে হবে। আমি বিশ্বাস করি তোমরা সেটা পারবে।
তিনি বাল্যবিবাহ রোধকল্পে অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে বলেন, মেয়েদেরকে এসএসসি ও এইচ,এস সি পাস করলেই তাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হয়, কেন আপনারা কি চান না আপনাদের মেয়েটা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে স্বাবলম্বী হউক? নিজের পায়ে দাঁড়াক? আপনার মেয়েটা যদি শিক্ষিত হয় স্বাবলম্বী হয়,তাহলে ভালো একটা বিয়ে দিতে পারবেন, শ্বশুরবাড়িতেও তার মর্যাদা বাড়বে। অল্প বয়সে মেয়েটাকে বিয়ে দিয়ে তার জীবনটাকে নষ্ট করবেন না। মেয়েটাকে স্কুল কলেজে পাঠিয়ে আপনাদের দায়িত্ব শেষ নয়, তার প্রতি আপনার নজরদারি থাকতে হবে। দোষটা ওদের নয় সময় ও বয়সের। আমি নবীনগরকে একটি উন্নত আধুনিক ডিজিটাল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, সেই লক্ষ্যে আমি ৫টি বিষয়ে জিরো পয়েন্ট ঘোষণা করেছি, প্রথমত দারিদ্র্য বিমোচন, উপজেলাবাসী কেউই দরিদ্র থাকবে না। দ্বিতীয়ত বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষাকে প্রাধান্য দেব। তৃতীয়ত মাদকমুক্ত জীবন, যুবক-যুবতীদের মাদকাসক্ত থেকে সরিয়ে আনার উদ্যোগ। চতুর্থ নিরক্ষরতা দূরীকরণ,বয়স্ক শিক্ষার চালুর মধ্য দিয়ে এ প্রক্রিয়া শুরু। পঞ্চমত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা।
আলোচনার শুরুতে প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন অত্র কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং আলোচনা শেষে সাইদুল হক ফাউন্ডেশন থেকে গরীব মেধাবী ও প্রতিবন্ধী ১৫ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান করা হয়।