রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের আব্দুস সাত্তার বিশ্বাসের ছেলে ইসমাম হাসান স্বাধীন ও তার স্ত্রী সানজিদা ইসলাম সিমু নিজেদের পছন্দে বিয়ে করেন। তাদের ভালোবাসার রঙিন স্বপ্ন ছিল কিন্তু বেকারত্ব সেই স্বপ্ন মরিচিকার মতো ধরা দেয়। তারা সংসার জীবনে দিশেহারা হয়ে পড়ে, কিছু একটা করতেই হবে। হঠাৎ একদিন শখের বসে অনলাইন থেকে এক কৌটা রং কেনে আর সেই রং দিয়ে পুরাতন পাঞ্জাবি আর শাড়িতে শখের বসেই আর্ট করে। সেই আর্ট করা পাঞ্জাবি আর শাড়ি পড়ে দুজনে একসাথে ঘুরতে বের হয়। আর এই আর্ট করা পাঞ্জাবি আর শাড়ির নকশা সবার নজর কেরে নেয়।
সেই থেকে তাদের স্বপ্ন নতুন উদ্যোক্তা হওয়ার। পাঞ্জাবি, শাড়ি ও বিভিন্ন পোশাকে আর্ট করার পাশাপাশি তারা নানা রকমের দেশিও পিঠা পুলি নিয়ে কাজ করতে শুরু করে। বিক্রয়ের মাধ্যমে হিসেবে বেছে নেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। শুরুতেই কাছের বন্ধু বান্ধবের কাছে থেকে অর্ডার আসতে থাকে। এর পরেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে বাড়তে থাকে অর্ডারের সংখ্যা।
স্থানীয়রা জানায়, শহরের থেকে এখন গ্রামের ছেলে মেয়েরাও পিছিয়ে নেই। গ্রামের ছেলে মেয়েরাও অনেক দূরে এগিয়ে যাচ্ছে তার উদাহরণ হলো আমাদের স্বাধীন ও তার স্ত্রী সিমু। গ্রামে বসেই তারা অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন পিঠা পুলি ও কাপড়ে আর্ট করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এখন তাদের তৈরি পিঠা ও আর্ট করা শাড়ি-পাঞ্জাবি নিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অর্ডার আসছে।
পাঞ্জাবি নিতে আশা ইমরান হোসেন জানায়, স্বাধীন ও সিমুর মতো তরুণ উদ্যোক্তারা এভাবে এগিয়ে আসলে তাদেরো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। সরকারি চাকরি বা বিভিন্ন চাকরির পিছনে ছুটতে হবে না। স্বাধীন ও সিমুর তৈরি পিঠা ও আট করা শাড়ি ও পাঞ্জাবি এখন সারা বাংলাদেশেই সুনাম ছড়িয়েছে।
তরুণ উদ্যোক্তা স্বাধীন ও সিমু জানায়, বিয়ের পর বেকারত্ব কে জয় করতেই বাড়িতে বসেই আমরা দুজনে বাড়িতে বসে পোশাকে হ্যান্ড পেইন্ট ও পিঠা তৈরীর কাজ শুরু করি। ধৈর্য ও সততার সাথে সবসময় কাজ করেছি। বাড়িতে কর্ম ব্যস্ত আপুরা সাধারণত অনেক ব্যাস্ত থাকার কারণে নারু, পিঠা বিভিন্ন প্রকার এই খাবার গুলো তৈরি করে খেতে পারে না সেই দিক চিন্তা করেই উদ্যোক্তা হওয়ার চিন্তা আসে।
