অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন হামজা দেওয়ান চৌধুরী। বৃটেনে জন্ম নেয়া বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ইতিমধ্যে পেয়েছেন বাংলাদেশী পাসপোর্ট।ইংলিশ ফুটবল এসোসিয়েশন ও বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির সবুজ সংকেত পেয়েছেন। তাই বাংলাদেশের হয়ে হামজা চৌধুরীর খেলা এখন নিশ্চিত হয়ে গেছে। আশা করা যাচ্ছে আগামী বছর ২৫ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফিকেশনে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জার্সি গায়ে তাঁর দেশের হয়ে অভিষেক হবে।
মাতৃসূত্রে হামজা দেওয়ান চৌধুরী বাংলাদেশি। জন্ম আর বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডের লেস্টারে। লেস্টেয়ার সিটি ক্লাবের একাডেমিতে দলে তার ফুটবলে হাতেখড়ি মাত্র আট বছর বয়সে। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার কিংবা রাইট ব্যাক পজিশনে খেলতে অভ্যস্ত হামজার পেশাদার ফুটবল অভিষেকও হয়েছে লিচেস্টারে। ২০১৫ সাল থেকে লিচেস্টারের জার্সিতে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ম্যাচের সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন বহু আগে। ক্লাবের অধিনায়কত্ব করেছেন এবং জিতেছেন এফএ কাপও। খেলেছেন ইউরোপের দ্বিতীয় সেরা ক্লাব টুর্নামেন্ট ইউরোপা লিগ ও উয়েফা কনফারেন্স লিগ এবং ইংল্যান্ডের বয়সভিত্তিক দলে। এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের পক্ষে খেলার জন্য তৈরি তিনি। বাফুফের পেজে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় হামজা বলেছেন, ‘আমি বাংলাদেশের পক্ষে খেলতে যাচ্ছি। আশা করি, দ্রুতই দেখা হবে।’
প্রশ্ন হচ্ছে, হামজার অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের ফুটবল কতটা লাভবান হবে? কোনো সন্দেহ নেই, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া হামজার রয়েছে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি। হামজার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ দল পাবে আন্তর্জাতিক মিডিয়ার মনোযোগ। এই যেন এক হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা, তাঁর পায়ের জাদুতে আলোকিত হবে বাংলাদেশ ফুটবল ও তাঁর সতীর্থরা। কিন্তু ফুটবল দলীয় খেলা। যদিও হামজার একার পক্ষে বাংলাদেশের ফুটবলের পরিস্থিতি রাতারাতি পাল্টে দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁকে সতীর্থদের যোগ্য সহযোগিতা পেতে হবে। বাংলাদেশের ফুটবলারদের সামনে থাকবে হামজার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। হামজা ইউরোপের ফুটবলের পেশাদারিত্ব ফুটবলীয় লড়াইয়ের শক্তিশালী মানসিকতা আর অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। তিনিও নানা বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে সমৃদ্ধ করতে পারেন সতীর্থদের।
বাংলাদেশের ফুটবলের মান বর্তমানে নিন্মমূখী জনপ্রিয়তাও তলানিতে। হামজার চৌধুরীর কল্যাণে বাংলাদেশের ফুটবল দল দেশীয় দর্শকদের মনোযোগ কাড়বে বলে আশা করা যায়। তিনি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ফুটবলের সবচেয়ে বড় আদর্শ হতে চলেছেন। যেকোনো খেলার জৌলুস নির্ভর করে তারকা খেলোয়াড়দের উপস্থিতির ওপর। জাতীয় দল কিংবা ক্লাব ফুটবল মহিমান্বিত হয়ে ওঠে মহাতারকাদের নামে। এখনো হাঙ্গেরি ফুটবল দলকে সবাই মনে রেখেছে ফেরেংক পুশকাসের জন্য। পেলের কল্যাণে মার্কিন ক্লাব কসমসের নাম সবার কমবেশি জানা। ইন্টার মিয়ামি কিংবা সৌদি আরবের আল নাসরকেই বিশ্বের ক’জন মানুষ চিনতো? শুধু লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতিতে রাতারাতি বদলে গেছে পরিস্থিতি। দুই মহাতারকায় আলোকিত ইন্টার মিয়ামি আর আল নাসরের খেলা দেখার জন্য স্টেডিয়াম তো বটেই, ছোটপর্দায় হুমড়ি খেয়ে পড়ছে কোটি কোটি ভক্ত। হামজার উপস্থিতিতে বাংলাদেশের ফুটবলেরও নবজাগরণের অপেক্ষায় ভক্তরা।