ঠোঁট শুষ্ক হওয়া বা ঠোঁট ফাটা একটি সাধারণ সমস্যা যা শীতকালে বা স্বল্প আর্দ্রতা ও জলীয় বাষ্পের মধ্যে বেশি দেখা যায়। শুষ্ক ঠোঁটের কারণে ব্যথা, চামড়া ফাটার সমস্যা এবং অস্বস্তি হতে পারে। তবে কিছু সহজ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
নিচে ঠোঁট শুষ্ক হলে কী কী করা উচিত তা বিস্তারিতভাবে জানানো হলো:
ময়েশ্চারাইজার বা লিপ বাম ব্যবহার করা:
কীভাবে কাজ করে: লিপ বাম বা ময়েশ্চারাইজার ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং ঠোঁটের শুষ্কতা কমাতে কার্যকর।
ব্র্যান্ড বা উপাদান: আপনি যে কোনো ভালো লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন, তবে শিয়া বাটার, কোকো বাটার, ভ্যাসলিন, অলিভ অয়েল বা এলোমো জাতীয় উপাদান থাকা লিপ বাম ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন।
ঠোঁটের ত্বক মাখন বা তেল দিয়ে ময়েশ্চারাইজ করা:
কীভাবে কাজ করে: ঠোঁট শুষ্ক হলে, মাখন বা তেল ব্যবহার করলে এটি দ্রুত ত্বকে আর্দ্রতা প্রদান করে। শিয়া বাটার, কোকো বাটার, বা অলিভ অয়েল ঠোঁটের শুষ্কতা দূর করতে সাহায্য করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন: কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল বা শিয়া বাটার ঠোঁটে লাগিয়ে মৃদুভাবে ম্যাসাজ করুন।
হাইড্রেটেড থাকা: কীভাবে কাজ করে: শরীরে পানির অভাব হলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, এবং তা ঠোঁটের শুষ্কতা সৃষ্টি করতে পারে।
উপায়: প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন (কমপক্ষে ৮ গ্লাস)। জলীয় পদার্থ যেমন স্যুপ, ফলের রস, বা স্যালাডও শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।
ঠোঁট এক্সফোলিয়েট করা:
কীভাবে কাজ করে: ঠোঁটের মৃত ত্বক অপসারণ করার জন্য এক্সফোলিয়েট (মৃত ত্বক পরিষ্কার) করার প্রয়োজন হতে পারে। এক্সফোলিয়েট করলে ঠোঁট মসৃণ হয়ে উঠবে এবং ময়েশ্চারাইজার ভালোভাবে শোষিত হবে।
কীভাবে এক্সফোলিয়েট করবেন: আপনি কিছু ঘরোয়া উপাদান যেমন চিনি এবং মধু ব্যবহার করে ঠোঁট এক্সফোলিয়েট করতে পারেন। এক চামচ মধুতে এক চিমটি চিনির সাথে মিশিয়ে ঠোঁটে মালিশ করুন এবং পরে ঠোঁট ধুয়ে ফেলুন।
ঠোঁটে লিপ গ্লস বা ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম ব্যবহার করুন:
কীভাবে কাজ করে: ঠোঁটে ময়েশ্চারাইজিং লিপ বাম বা লিপ গ্লস ব্যবহার করলে ঠোঁটের শুষ্কতা দূর হয় এবং ঠোঁট মসৃণ থাকে।
বিশেষ পরামর্শ: ঠোঁটের জন্য এমন লিপ বাম ব্যবহার করুন, যাতে ভিটামিন E, শিয়া বাটার, বা জোজোবা তেল থাকে। এগুলি ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক।
ঠোঁটে লালা না লাগানো :
কীভাবে কাজ করে: ঠোঁটের শুষ্কতা কমাতে অনেক সময় মানুষ লালা ব্যবহার করে। তবে লালা লাগানো ঠোঁটের শুষ্কতা বাড়াতে পারে, কারণ লালা শুকানোর পর ঠোঁট আরও শুষ্ক হয়ে পড়ে।
সতর্কতা: ঠোঁটে লালা লাগানো থেকে বিরত থাকুন। এতে ঠোঁটের শুষ্কতা বাড়বে।
ঠোঁটের শুষ্কতা থেকে বিরত থাকার জন্য ঠোঁট চিবানো বা কামড়ানো থেকে বিরত থাকুন :
কীভাবে কাজ করে: অনেক মানুষ শুষ্ক ঠোঁটের কারণে ঠোঁট চিবান বা কামড়ান। এটি ঠোঁটের ত্বক আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শুষ্কতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
সতর্কতা: ঠোঁট কামড়ানো বা চিবানো থেকে বিরত থাকুন। এর ফলে ঠোঁটের ত্বক ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শীতকালে গরম পানি পান করা:
কীভাবে কাজ করে: শীতে গরম পানি পান করলে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ঠোঁট শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
উপায়: গরম পানি, চা বা স্যুপ পান করার চেষ্টা করুন, তবে অতিরিক্ত গরম পানি না পান করুন যাতে মুখের ত্বক ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
ভিটামিন E ব্যবহার:
কীভাবে কাজ করে: ভিটামিন E ঠোঁটের শুষ্কতা এবং
(cracks) বা ফাটল কমাতে সাহায্য করে। এটি ত্বকে ময়েশ্চারাইজিং প্রভাব তৈরি করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন: ভিটামিন E ক্যাপসুল খুলে ঠোঁটে লাগাতে পারেন বা ভিটামিন E সমৃদ্ধ লিপ বাম ব্যবহার করতে পারেন।
নিরাপদ ও উপযুক্ত লিপ কেয়ার প্রডাক্ট ব্যবহার করা:
কীভাবে কাজ করে: বাজারে অনেক লিপ বাম পাওয়া যায়, তবে সেগুলির মধ্যে কিছু প্রোডাক্টে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা ঠোঁটের শুষ্কতা বাড়াতে পারে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন: এমন লিপ বাম ব্যবহার করুন যাতে প্যারাবেন, ফ্র্যাগ্রেন্স বা অ্যালকোহল না থাকে। এগুলি ঠোঁটের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।