কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ও কয়রা সদর ইউনিয়নের হাজারও মানুষের চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো ও প্লাস্টিকের ড্রামই ভরসা। জানা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪ নং কয়রা ও মহারাজপুর ইউনিয়নের মটবাড়ি গ্রামের সংযোগ স্থল শাকবাড়িয়া নদীর উপর এলাকাবাসী দীর্ঘদিন একটি ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানিয়ে আসছে। কেবল নির্বাচন আসলেই প্রতিশ্রুতি মেলে ব্রীজ নির্মাণের।
নির্বাচন শেষে ওই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আর হয়না। বাঁশের সাঁকো ও ড্রাম দ্বারা নির্মিত পল্টূন দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সহ জনসাধারণকে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়রা সদর ইউনিয়নের ৪ নং কয়রা ও মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ি গ্রামের মধ্যে স্থল শাকবাড়িয়া নদীর উপর মানুষের চলাচলের জন্য একটি বাঁশের সাঁকো ও প্রতাপ স্মরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ড্রামই একমাত্র মাধ্যম।
সাঁকোটি ২০২২ সালে স্থানীয় জনগন ও বিভিন্ন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়েছে। বাঁশের সাঁকোটি নির্মিত হওয়ায় দু’পারের মানুষের চলাচল অনেকটা সহজ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ২০০৯ সালে আইলায় প্রতাপ স্বরনী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মটবাড়ি গ্রামের সংযোগ স্থলের রাস্তা ভেঙ্গে দু’পারের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ ১৫ বছরেও ভেঙ্গে যাওয়া স্থানে বাঁধ দেওয়া সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ভেঙ্গে যাওয়া স্থানে ড্রাম দিয়ে পারা-পারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে ওই ড্রামের মাধ্যমে মঠবাড়ি গ্রামের পূর্ব অংশের মানুষ ও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা পারাপার হয়।
অপরদিকে মঠবাড়ি গ্রামের পূর্ব অংশের মানুষ ও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা উপজেলা সদরে আসা-যাওয়ার জন্য মনছুর সানার বাড়ির সামনে নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হয়ে থাকে। সাঁকো পার হওয়া মঠবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুর সবুর ও ৪ নং কয়রা গ্রামের গৃহিনী সুফিয়া খাতুন বলেন, বাঁশের সাঁকো দিয়ে বৃদ্ধ ও শিশুদের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। স্কুলে ছেলে-মেয়েদের পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয় তাদের। বাঁশের সাঁকোর স্থলে একটি ব্রিজ হলে চিন্তা মুক্ত থাকতে পারতাম। কয়রা ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত)চেয়ারম্যান এসএম লুৎফর রহমান বলেন, দুই ইউনিয়নের সংযোগ স্থল শাকবাড়িয়া নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মিত হলে কয়রা সদর ইউনিয়নের সাথে মহারাজপুর ইউনিয়নের জনসাধারনের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাস বলেন, দু’পারের মানুষের চলাচলের জন্য শাকবাড়িয়া নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মাণ হলে দু’ ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে।