কোমরে ব্যথা এক অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। সাধারণত, কোমরের ব্যথা শরীরের নানা ধরনের সমস্যার ফলস্বরূপ হতে পারে।
পেশী বা হাড়ের সমস্যা
পেশীর টান: শারীরিক পরিশ্রম, ভারী কিছু তোলা বা ভুলভাবে বসে থাকার ফলে পেশী টানতে পারে, যার কারণে কোমরে ব্যথা হয়।
ডিস্কের সমস্য: স্পাইনাল ডিস্কের (হাড়ের মধ্যে) ক্ষয় বা ফাটলও কোমরে ব্যথার কারণ হতে পারে। এটিকে হেরনিয়েটেড ডিস্ক বলা হয়।
অস্টিওআর্থ্রাইটিস: বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের ক্ষয় বা মাংসপেশীর সমস্যা হতে পারে, যা কোমরে ব্যথা সৃষ্টি করে।
অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা বা বসে থাকা কাজ বা পড়াশোনা করতে গিয়ে দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলে কোমরে চাপ পড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে। ভারী কিছু তোলা: অধিক ভারী বস্তু তোলার ফলে কোমরের পেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যার ফলে ব্যথা হতে পারে।
অস্বাস্থ্যকর শারীরিক অবস্থান
ভুলভাবে বসা বা শোওয়া: সঠিক ভঙ্গিতে বসা বা শোওয়া না হলে, তা কোমরের পেশীতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এবং ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। বাঁকা বা দুর্বল শরীরী ভঙ্গি: দুর্বল বা বাঁকা ভঙ্গিতে চলাফেরা করলে কোমরের পেশী শিথিল হয়ে ব্যথা হতে পারে।
হরমোনাল পরিবর্তন
গর্ভাবস্থায় গর্ভাবস্থার সময় পেটের ওজন বাড়ার কারণে কোমরের পেশীতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে।
মেনোপজ মহিলাদের মেনোপজের সময় হরমোনের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা কোমরে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।
অসুখ বা রোগ
গরম বা ঠাণ্ডার প্রভাব: অতিরিক্ত ঠাণ্ডা বা গরমের প্রভাবেও কোমরের পেশীতে ব্যথা হতে পারে। স্ট্রেস বা মানসিক চাপ: মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ শরীরের পেশীতে টান সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে কোমরে ব্যথা হতে পারে।
বয়সের প্রভাব
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কোমরের ডিস্ক বা হাড়ের ক্ষয় হতে পারে, যা ব্যথার সৃষ্টি করে। সাধারণত ৩০ বছর বয়সের পর এই ধরনের সমস্যা বৃদ্ধি পায়।
আরো কিছু কারণ
অতিরিক্ত ওজন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন কোমরের পেশীতে চাপ সৃষ্টি করে এবং ব্যথা হতে পারে৷ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: সুষম খাদ্য না খাওয়ার কারণে শরীরের পেশী ও হাড় দুর্বল হতে পারে, যা কোমরের ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।