চোখে ভাসে ভাগাড়ের হাড়মুণ্ড
মনের আড়ালে ভীষণ অসুখ,
চোখে ভাসে ভাগাড়ের হাড়মুণ্ড
যৌবনের সোনালী সূর্য ম্রিয়মাণ,
পরাজিতদের হাতে পুনরায় রচিত হত্যাদৃশ্য,
জননীর চোখে বৃষ্টি নামে!তাইতো আমি খুব নিরবে
দাঁড়িয়ে আছি বৃক্ষের ছায়াতলে….
সম্মুখে শাল, মেহগনি, দেবদারু সহ
নাম না জানা অজস্র বৃক্ষ
ওদের শোনাতে থাকি জীবনের দুঃখগাঁথা!আমি বিশ্বাস করি-
বুকের ভেতর বুক পেতে
শরীরের দুর্গন্ধ মাপার চেয়েও মহত্তম
বৃক্ষদের কুলপ্লাবিনী শব্দ তরঙ্গ!ছদ্মবেশী মুখ কিংবা পাপীকে চুম্বন করে-
সন্ন্যাসিনী হওয়ার চাইতেও
দুঃখদহন-ই হোক সঙ্গী!প্রশস্ত বৃক্ষের ঢালে দুঃখগুলো ঝরে পড়ুক…
মনকাড়া শৈশবের গল্পগুলো জেগে থাকুক শতাব্দীকাল।সম্মুখে দাঁড়িয়ে গেছে অদ্ভুত এক দেয়াল!
উম্মাদ মনোভূমে বহুকাল আগেই
একবার চেতনা হারিয়েছি
শরীরে লেপ্টানো মাটি কিংবা
নোনাজলে পুনরায় জেগে উঠে দেখি
ভাঙ্গা ইতিহাসের ছায়াতলে দাঁড়িয়ে-
জলপাই রঙের মহোৎসবের কলরোল!আমার, আমাদের উত্তাপ
সহনশীল মাত্রায় থেমে যায়!
পুঁজি ও ক্ষমতায় অবরুদ্ধ হতে হতে
সম্মুখে দাঁড়িয়ে গেছে অদ্ভুত এক দেয়াল!সত্য প্রকাশে বিচ্যুত সারি সারি নতমুখ
ওরা উপবাসী, ঝরাজীর্ণ!
ওদের মুখের শ্লোক,
কৃর্তি কিংবা অসম্পন্ন কর্মগুলো
বিষাদের নীল ছায়া হয়ে
ভীড় করে আমার কবিতার খাতায়।কবিতাগুলোও আজকাল কেন যেন
হাত, পা মেলেনা….
একবুক শুষ্কতা নিয়ে গোঙাতে থাকে।
অতপর; হেঁটে যায় জঙ্গলের পথ ধরে….মেয়ে তুমি- আমাকে পোড়াচ্ছ
কোন এক বিপ্লবের চুড়ান্ত সন্ধিক্ষণে
রাজপথ জুড়ে তুমুল হট্টগোল,
দিকবিদিক ছুটে চলছে মানুষ ও রঙ-
বেরঙের অজস্র পাখি
তুমিও ছুটছিলে হতচকিত হয়ে, আর আমি
লুব্ধ দৃষ্টি মেলে তোমার দিকেই তাকিয়ে ছিলাম!অদ্ভুত চোখ দুটোতে এ কিসের আহবান?
বুকের ভেতর দীর্ঘ ছায়াপথে তেজস্ক্রিয় উত্তাপ ছড়িয়েছে
মুহুর্তেই রাস্তার ধারে ছেঁড়া কলাপাতাগুলোও
হয়ে গেলো রূপালী চোখ!তখনও ভীষণ ভাবে অরক্ষিত চারিদিক
কিছুপর… তুমি যখন বসেছিলে রোদ্দুরে
সত্যপীরের মতো উজ্জ্বল ঠেকছিলো তোমার মুখ,
প্রাচীন ও রহস্যময় চোখ দুটোতে ভীষণ আলোড়ন!হৃদয় উতরোল- অনাদিকালের আকাঙ্খায়
তোমার দিকে হাত বাড়াতেই…
বিষণ্ন ভ্রমণের মতো আমাকেও পেয়ে বসেছিলো স্তব্ধতা!নিঃশব্দে, অনেকটাই কম্পমান কম্পাসের মতো
অনিদ্রায় কেটেছে যৌবন
আঁটকুড়ে শিথিল মরদের মতো দেখেছি সূর্যের রূপ!সেই তো অনেকদিন হয়ে গেলো, ইতোমধ্যে
প্রতিবিপ্লবীরাও ডাল মুড়িয়ে গেছে বেশ ক ‘বার!
মাঘ নিশীথের অন্ধকারে আজও
মেয়ে তুমি- আমাকে পোড়াচ্ছ!নড়ে চড়ে কুনো ব্যাঙ
তোমার সামনে প্রতিনিয়ত বয়ান করি লোক সভ্যতার
অথচ ভেতরটায় শূলব্যাথা জর্জরিত ভীত অন্ধকার!
তাইতো সমস্ত প্রলাপ ডিহাইড্রেশন হয়ে রূপ নেই উন্মত্ত, মাতাল উৎসবে!আজকাল নিজের ছবিটাকেও মনে হয় কম্পমান ছায়া
অদ্ভুত রকমের স্তব্ধতা- স্বজনবান্ধব মৃত
সময়টাকে বেঁধে নিয়ে যায় দিগন্তহীন জনপদে!নব উত্থানের মত্ত কলরোলে গন্থিত ভাষা ও ইতিহাসের
পিঠে নড়ে চড়ে কুনো ব্যাঙ, গোঙাতে থাকে!
আমরাও গোঙাতে থাকি…..বাংলাদেশ এক মাতাল অশ্ব
পাঠার দল সমস্বরে পদাবলীর গীত গেয়ে যায়-
টিকটিকির মতো আমরাও কোমর দুলিয়ে নাচি
মাঝেমধ্যে গোঁয়ার গরুর মতো হাম্বা হাম্বা চিৎকার করি!অন্যত্র আমাদের অন্তঃপুরে বন্টন প্রক্রিয়ায় নব্য ভূস্বামীর দল…
ঠোঁট রঞ্জনী মাখানো সুঠাম সুন্দরী বুলি কপচিয়ে
আমাদের ভুলিয়ে রাখে…..হাভাতে বাঙালী- বীহাইভ ব্রান্ডির গন্ধ শুকতে ভালবাসি,
“বাংলাদেশ এক মাতাল অশ্ব” বলেছিলেন নির্মলেন্দু গুণ।
