চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে এক স্কুলছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ( ৮ মার্চ ) (সকাল ১১:৩০) দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্কুলছাত্রীটি তার মামাতো ভাই (বয়ফ্রেন্ড) কে নিয়ে গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে ঘুরতে গিয়েছিল। সেখানে একদল যুবক তাদের পথ আটকায়। অভিযুক্তরা প্রথমে ছাত্রীটির বয়ফ্রেন্ডকে মারধর করে এবং পরে মেয়েটিকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়।
এদিকে, ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গণধর্ষণের গুজব ছড়িয়ে পড়ে, যা এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি করে।
সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসি মোঃ মজিবুর রহমান জানান, “মেয়েটির মায়ের উপস্থিতিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে গণধর্ষণের বিষয়ে কিছু বলেনি, তবে কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং মেডিকেল পরীক্ষার পর বিস্তারিত জানা যাবে।”
সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম জানান, “স্থানীয়রা ধর্ষণের অভিযোগ করলেও মেয়েটি পুলিশের কাছে সে কথা বলেনি। তবুও তদন্তের পাশাপাশি মেডিকেল পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি সমন্বয়ক আসাদুজ্জামান আসাদ জানান, “আমি মেয়েটিকে বিষয়টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে মেয়েটি ধর্ষণের কথা অস্বীকার করেছিল। তবে পরে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সে চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করছে।”
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় কিছু ব্যক্তি মেয়েটি ও তার সঙ্গীর কাছ থেকে টাকা দাবি করেছিল। এ সময় বয়ফ্রেন্ড পালিয়ে গেলে আশপাশের লোকজন এসে পরিস্থিতি জটিল করে তোলে। পুলিশের কাছে মেয়েটির দেওয়া জবানবন্দিতেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। মেয়েটির মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্র সৈকতে এ ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।