যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের বকুলিয়া গ্রামে এক সংখ্যালঘু গৃহবধূকে (৩০) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে আলাউদ্দীন সরদার ওরফে পল্টি আলাল (৬৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার রাইটা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ রাতে গৃহবধূর স্বামী তার দুই মেয়েকে নিয়ে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যান। ওই রাতে গৃহবধূ প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গেলে অভিযুক্ত আলাউদ্দিন সরদার সুযোগ বুঝে খোলা দরজা দিয়ে ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে গৃহবধূ ঘরে ঢুকলে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। তবে গৃহবধূর চিৎকারে বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত আলাউদ্দীন দ্রুত পালিয়ে যায়, তবে সে সময় তার গামছা, টর্চলাইট ও হাতে থাকা দা ঘটনাস্থলে ফেলে যায়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বকুলিয়া গ্রামের মৃত: আক্কাস আলীর ছেলে আলাউদ্দিন সরদার গত বছর রোজার মাসেও তিনি একই কাজ করেছিলো। কিন্তু সেসে আওয়ামীলীগ নেতা হওয়ায় রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। স্থানীয় কিছু পাতি নেতা ও গ্রাম্য মাতব্বর’রা স্থানীয় ভাবে মিমাংসা করার নাম করে ধামাচাপা দিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, বিগতদিনে আলাউদ্দিন সরদার আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ছিলেন আর এর সাথে জড়িত ছিলো স্থানীয় কিছু আওয়ামীলীগ পন্থি নেতা ও মাতব্বর। ফলে তার বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ তুলে বলেন একাধিকবার অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রথমে ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ভুপালী সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হলে পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার রাইটা গ্রাম থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।