ঠাকুরগাঁওয়ে অনলাইনে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মিলন হোসেন (২৩) নামের এক যুবককে অপহরণ করেছিল একটি চক্র। তবে মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা দিয়েও কলেজ পড়ুয়া ছেলেটিকে জীবিত পাওয়া গেল না। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে গ্রেফতারকৃত একজন মিলনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন।
এর ঘটনার ২৬ দিন আগে মিলন অপহরণের স্বীকার হলে অপহরণকারীরা মিলনের পরিবারের কাছে ২৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। নাড়িছেঁড়া ধন বুকের মানিককে ফিরে পেতে অনেক কষ্ট করে টাকা মেনেজ করে অপহরণকারীদের দেয় মিলেনের বাবা মা ।
কিন্তু অপহরণের ২৬ দিন পর বন্ধর বাড়ির পিছন থেকে মিলনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করলো পুলিশ।জানা গেছে মিলন দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে পড়াশোনা করতো। মিলন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার চাপাপাড়া গ্রামের পান্জাব আলীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) রাত ৩টার দিকে দুই অপহরণকারী গ্রেফতার ও মিলনের লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- সদর উপজেলার শিবগঞ্জ মহেশপুর বিট বাজার এলাকার মো. মতিয়ার রহমানের ছেলে মো. সেজান আলী। সে এলাকার কথিত সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আরেকজন গ্রেফতারকারীর নাম পরিচয় দেওয়া সম্ভব হয়নি পুলিশের পক্ষ থেকে।
পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, “অনেক দিন ধরে এই বিষয়ে কাজ করছিলাম আমরা। কোনো ক্লু পাচ্ছিলাম না। প্রযুক্তির সহযোগিতায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা স্বীকার করেছে যে তারা মিলনকে খুন করেছে এবং তাদের দেখানো মতে লাশ উদ্ধার হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া সেজান আলীর বাড়ির পাশেই একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের নিচ থেকে মিলনের গলিত লাশ উদ্ধারের কাজ করেছে ডিবি পুলিশ ।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মামুনুর রশিদ বলেন, ‘বুধবার রাতে মিলনকে অপহরণের ঘটনায় আমরা দুইজনকে গ্রেফতার করি। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা মিলনকে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছে এবং তাদের দেখানো মতে আমরা স্থানীয় সাক্ষীদের সামনে লাশ উদ্ধার করেছি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।