সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬: চট্টগ্রাম জেলায় “বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)” প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী মধ্যবর্তী মূল্যায়ন ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য ব্রিটিশ পরামর্শক অ্যাডাম স্ট্যাপলেটন এবং দেশীয় পরামর্শক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, ইউএনডিপি বাংলাদেশের প্রতিনিধি শরীফা পারভীন এবং প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল আনোয়ার ভূঁঞা।
মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক জানান, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামের ১৯১টি ইউনিয়নের মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২৩টিতে নির্বাচিত চেয়ারম্যান রয়েছেন; বাকি ইউনিয়নগুলোতে প্যানেল চেয়ারম্যান ও প্রশাসকদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং ও রিভিউ টিম গঠনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদে পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করা এবং দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা গেলে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি গ্রাম আদালতকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি নির্ভরযোগ্য বিচারিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে উল্লেখ করেন।
একই দিন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে আয়োজিত সভায় জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস জানান, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় জেলা আদালতের ওপর মামলার চাপ কমছে। গত দুই বছরে প্রায় ১,০২৩টি মামলা জেলা আদালত থেকে ইউনিয়ন পরিষদে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি লিগ্যাল এইড ও গ্রাম আদালতের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
২০ এপ্রিল বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপজেলা রিসোর্স টিম ও গ্রাম আদালত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আরেকটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুখ বলেন, গ্রাম আদালত পরিচালনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের অন্যতম দায়িত্ব। যারা এ দায়িত্ব পালনে উদাসীন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেটে গ্রাম আদালতের জন্য বরাদ্দ রাখার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান।
সভায় বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, গ্রাম আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা জরুরি।
এছাড়া জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গ্রাম আদালতের সেবা বিষয়ে সচেতনতা ও প্রচার কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্র্যাক, বিটা, ইপসা, ইলমা, প্রত্যাশী, প্রশিকা, টিআইবি, ব্লাস্ট, অপরাজেয় বাংলাদেশ, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম এবং স্বপ্নীল ব্রাইট বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন সুপারিশ প্রদান করেন।
মূল্যায়ন দলের সদস্যরা কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ও বোয়ালখালীর শাকপুরা ইউনিয়ন পরিষদে সরেজমিন পরিদর্শন করেন। এ সময় গ্রাম আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা, সেবা গ্রহণকারীদের সন্তুষ্টি যাচাই এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়।
সার্বিকভাবে, এই মধ্যবর্তী মূল্যায়ন গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।






