ঢাকা, রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, ১৫ অগ্রহায়ণ, ১৪৩২, ৮ জমাদিউস সানি, ১৪৪৭

প্রচ্ছদ >

অন্যান্য

চট্টগ্রামে কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরীর শোকসভা অনুষ্ঠিত

২৯ নভেম্বর -২০২৫ খ্রী. চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব হলে প্রবীন শ্রমিকনেতা ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনের পথ প্রদর্শক মহান বিপ্লবী কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরী স্মরণে এক শোকসভা অনুষ্ঠিত হয়।  শোকসভা প্রস্তুতি পরিষদের চেয়ারম্যান রথীন সেনের সভাপতিত্বে এবং প্রগতির যাত্রীর সাধারন সম্পাদক ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উক্ত শোকসভায়  অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশের কমিউনিস্টা পার্টির সাবেক সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, সাংবাদিক সুভাষ দে, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহা, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদ্ল চটগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী শেখ নুর উল্লাহ বাহার, চট্টগাম বিভাগীয় স সিপিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সভাপতি অধ্যাপক কানাই দাশ, নারী নেত্রী নূরজাহান খান, টিইউসির প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক আবু তাহের মাসুদ, চটগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও শিক্ষকনেতা অধ্যাপক রঞ্জিত দে, ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মোঃ আরিফুর রহমান, কমরেড আহসানউল্ল্যাহর মেয়ে ড. শামসুন্নাহার চৌধুরী লোপা, ডাঃ আরিফ উদিন আহমেদ বাচ্চু প্রমুখ।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, জননেতা কমরেড আহাসানউল্ল‍্যা চৌধুরী ছিলেন ষাটের দশকে চট্টগ্রাম বন্দরের কিংবদন্তি শ্রমিক নেতা। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের রাজপথ কাঁপানো ও আয়ূব – ইয়াহিয়ার বুকে আতংক সৃষ্টিকারী শ্রমিক ও জননেতা। তাই তাঁকে ধরিয়ে দেয়ারজন‍্য পাকিস্তানি এই শাসকরা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। আহাসানউল্লাহ  চৌধুরী প্রথমেই ধরতে পেরেছিলেন বিশ্ব সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের সাথে গরভাচেবের বিশ্বাসঘাতকতাকে। তাই তিনি আন্তপার্টি লড়াইয়ে গরভাচেবের তত্ত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঝাণ্ডাকে উঁচু করে তুলে ধরে ছিলেন। তাঁর শ্রেণি দৃষ্টিভঙ্গী ছিল পরিষ্কার। তিনি ছিলেন আমৃত‍্যু দেশপ্রেমিক ও মানবমুক্তির সৈনিক।
বাংলাদেশের বাম ও প্রগতিশীল আন্দোলনের ইতিহাসে কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরী এমন এক নাম, যার জীবন ও সংগ্রাম আজও আমাদের সাহস, দৃঢ়তা ও আদর্শিক স্পষ্টতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। তিনি ছিলেন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের অবিচল যোদ্ধা, বিপ্লবী চেতনার প্রাণস্বরূপ এবং শোষণমুক্ত সমাজ নির্মাণের এক প্রাণান্তক সাধক। তাঁর জীবনপথ শুধু ব্যক্তিগত ত্যাগ ও আদর্শের গল্প নয়—এটি এই দেশের শ্রমিক, মেহনতি ও বঞ্চিত মানুষের ন্যায়সংগ্রামের এক অমূল্য দলিল।
টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি এবং শ্রম সংস্কার কমিশনের অন্যতম সদস্য তপন দত্ত বলেন আহসান ভাই মূলত একজন সংগ্রামী শ্রমিকনেতা ছিলেন। বন্দর শ্রমিক আন্দোলন করতে গিয়ে এক পর্যায়ে গোপন কমিউনিস্ট পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হন। বন্দরে চাকুরী নিয়ে বিদ্যমান ইউনিয়ন সমূহের শ্রমিক স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ডের কারনে বন্দরের শ্রমিক কর্মচারীরা ছিলেন অসহায়। তাদের পক্ষে কথা বলার জন্য বিদ্যমান ইউনিয়নগুলো কোন ভূমিকা নেয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে তাঁর নেতৃত্বে বন্দর শ্রমিকেরা সংগঠিত হয়ে আন্দোলন শুরু  করে।
বন্দর শ্রমিকদের আন্দোলন তুঙ্গে উঠলে বন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন আনরেজিস্টার্ড এই অজুহাতে তাঁর উপর অত্যাচার নির্যাতন শুরু হয়। এতে শাপে বর হয়েছে। এক পর্যায়ে বন্দর শ্রমিকদের আন্দোলনের চাপে তৎকালীন জেলা প্রশাসক স্বউদ্যোগে তাঁকে ইউনিয়ন জমা দিতে বলেন। সাথে সাথে শ্রম পরিদপ্তরকেও বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নকে রেজিস্ট্রেশন দিতে নির্দেশ দেন। তার নেতৃত্বে বন্দর শ্রমিকেরা শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থানসহ বহু দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়।
তিনি ছিলেন ঐক্যবদ্ধ শ্রমিক আন্দোলন গড়ে তোলার অন্যতম কারিগড়। ১৯৬৫ সালে জহুর আহাম্মদ চৌধুরী, এম এস হক, মাহাবুব আলী, জামশেদ আহাম্মদ চৌধুরী ও আহসান উল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ফিনলে, ইস্পাহানী, শ ওয়ালেস এবং আরো অনেক সেক্টরের শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন সংগঠিত করে। শ্রমিকদের দাবি আদায়ে আপোসহীনতার কারনে তাঁর উপর বহুবার হুলিয়া গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারী হয়। মুক্তিযুদ্ধে তিনি অসীম সাহসিকতার সাথে ভূমিকা পালন করেন।
কমিউনিস্ট পার্টি সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও তাঁর অনন্য ভূমিকা রয়েছে। পার্টিকে বিলোপবাদের হাত থেকে রক্ষায় ৯০ দশকে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট আন্দোলনে স্মরনিয় হয়ে থাকবে। তিনি ছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের নেতা। টিইউসির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও চট্টগ্রাম জেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়।
শোকসভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারা বলেন, “কমরেড আহসানউল্লাহ চৌধুরী জীবনভর যে আলোকবর্তিকা বহন করেছেন—সেটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে দিতে আমাদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তাঁর মতো অকুতোভয় নেতার স্মরণ আমাদের আন্দোলনকে পুনর্গঠিত ও দৃঢ়তর করে”।
শোকসভার শুরুতে প্রগতির যাত্রীর সাংস্কৃতিক সম্পাদক জয়ন্ত রাহার পরিচালনায় শোক সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং শোকাঞ্জলি পাঠ করেন শোকসভা পরিষদের সদস্য সচিব খোদেজা বেগম।
শোকসভায় বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ইপসার পরিবেশনায় কমরেড আহসানউল্লাহ ‘র জীবনভিত্তিক একটি প্রামান্য ভিডিও চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

শেয়ার করুনঃ

সর্বশেষ

ফেসবুক পেজ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০  
error: protected !!

Copyright© 2025 All reserved